মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে উঁকি দিচ্ছে মৃত্যু, এবারের ঈদযাত্রায়ও ঝুঁকি থাকছে

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার অংশ মাত্র ২২ ফুট চওড়া। এ ছাড়া আছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়বে। গত ঈদুল ফিতরে এই এলাকায় ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন।

কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশ সড়কের পাশেই জঙ্গল ও ঝোপঝাড়। ফলে দেখা যায় না বাঁক। এা কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। গতকাল বিকেলে লোহাগাড়ার চুনতি হাজী রাস্তার মাথা এলাকায়প্রথম আলো

২২ ফুটের সরু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গাড়ি চলাচল করে। ঈদের ছুটিতে যান চলাচল আরও বাড়ে। এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত বছর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৬ জন।

তবে এ বছর ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিআরটিএ। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে গতিরোধকে সাদা রং দিয়ে দৃশ্যমান করার পাশাপাশি সড়কের পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে বাঁকে সতর্কতামূলক লাল পতাকা। তবে এতে দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত। মূলত সড়ক সরু হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের এই অংশ দিয়ে এবারও তাই ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা করবেন যাত্রীরা।

সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, যানবাহনের বেপরোয়া গতি, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অপ্রশিক্ষিত চালক, লবণপানিতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হওয়া, ছোট যানবাহনের চলাচল, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল ও সড়কে দুই পাশে অসমান অংশের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, যানবাহনের বেপরোয়া গতি, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অপ্রশিক্ষিত চালক, লবণপানিতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হওয়া, ছোট যানবাহনের চলাচল, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল ও সড়কে দুই পাশে অসমান অংশের কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে চুনতি জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রস্থ ২২ ফুট। গতকাল বুধবার বিকেলে এই অংশ ঘুরে দেখা গেছে, সাতকানিয়ার কেরানীহাট এবং লোহাগাড়ার পদুয়া, আমিরাবাদ ও আধুনগর বাজারে ফুটপাত হকারদের দখলে চলে গেছে। এসব স্টেশনে বেশ কিছু অটোরিকশার স্ট্যান্ড আছে। এতে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে বিশৃঙ্খলভাবে চলাচল করছে তিন চাকার যানবাহন। মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা অংশের মিঠার দিঘি, বার আউলিয়া, লোহার দিঘির পাড়, হাজি রাস্তার মাথা, মিঠার দোকান ও চুনতি জাঙ্গালিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে ঝুঁকি নিয়ে তীব্র গতিতে যানবাহন চলছে এবং চালকদের মধ্যে ওভারটেকের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। কোনো কোনো এলাকায় মহাসড়কের পাশের কাঁচা অংশ বেশ নিচু। এতে যানবাহন উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক দখল করে গড়ে উঠেেছে অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যাড। চলছে তিন চাকার যানবাহন। গতকাল বিকেলে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায়
প্রথম আলো

লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, একদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যদিকে পর্যটননগরী কক্সবাজার হওয়ায় মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বে সড়কটি খুব সরু। এই সরু রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। যেখানে দেশের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ৪ লেন বা ৬ লেন হয়ে গেছে, সেখানে জনদাবি সত্ত্বেও সড়কটি এখনো ২ লেন থেকে গেছে। যতই লবণের পানি কিংবা দ্রুতগতিকে দোষ দেওয়া হোক না কেন, মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা ছাড়া দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে স্টেশন ও বাজারগুলোতে অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং ফুটপাত দখল করে হকার বসানো হয়েছে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চালক ও যাত্রীদের মূল্যবান সময় অপচয় হয়। ফলে সময় পুষিয়ে নিতে চালকেরা মহাসড়কের বাকি অংশে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার স্টেশনগুলোতে আমাদের তিনটি টলহ দল দিনের বেলায় ও দুটি রাতে কাজ করছে।’

ঈদের পরই মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে জানান চট্টগ্রাম দক্ষিণের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম। তবে সড়ক প্রশস্ত হলেও বাড়ছে না লেন। প্রথম আলোকে শহিদুল আলম বলেন, ‘সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রস্থ মাত্র ২২ ফুট। পর্যটন এলাকা বান্দরবান ও কক্সবাজারগামী গাড়িসহ সংকীর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ছুটির দিনে ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যা মহাসড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তা ছাড়া অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে আমরা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাঁক প্রশস্তকরণ কাজ করায় দুর্ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সতর্কতামূলক ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং করা হয়েছে। সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত সড়ক ২২ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ ঈদের পরই শুরু হবে। সেটি বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।