‘ধানের শীষে ভোট না দিলে রেহাই নেই’, বিএনপি নেতার হুমকির ভিডিও ভাইরাল

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। গত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায়ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’—বিএনপির নেতার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় ওই বক্তব্য দেন। শনিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজাম উদ্দিন নামের ওই নেতা সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে ১৬০৮ ভোট রয়েছে, এখান থেকে ২০০ ভোটও যদি বাইরে যায়, আমরা মার্ক করে ফেলেছি, আমরা ধরতে পারব, কে কে অন্য মার্কায় ভোট দিয়েছেন। আমাদের কারও কাছে যাওয়া লাগবে না, আপনাদের পেছনে আমাদের গোয়েন্দা লাগানো আছে। আল্লাহর কসম করে বলতেছি, আপনারা এখন আমাদের সঙ্গে ধানের শীষের ছায়াতলে আসেন। যদি আমরা নির্বাচনের পরে দেখতে পাই, এখান থেকে অন্য মার্কার কেউ বেইমানি করেছে, ১০-২০-৫০ ভোট অন্য মার্কায় পড়েছে, কোনো রেহাই নাই-আমি বলে দিলাম। ভিডিও করতেছেন ভিডিও করেন, ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম, ধানের শীষের পক্ষে এখান থেকে আপনারা গণজোয়ার সৃষ্টি করবেন।’

মুঠোফোনে ধারণ করা তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর বক্তব্যের ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নিজাম উদ্দিন বক্তব্যকালে সভায় উপস্থিত ছিলেন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাহের, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক বাবুল আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি থেকে পদত্যাগী পৌরসভার আহ্বায়ক ওমর ফারুক টিটু, তাঁর ভাই ওসমান গণি রিতু প্রমুখ।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সর্ম্পকে অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, তাঁর আত্মীয়দের নিয়ে ওই দিন তিনি একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কিছু আত্মীয় দিনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে থাকলেও গোপনে রাতে অন্য প্রার্থীর পক্ষে আতাঁত করেন। মূলত তাঁদের বোঝানোর জন্য ওই বক্তব্যটা। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোনো সাধারণ ভোটারদের হুমকি–ধামকির উদ্দেশ্যে এটা বলিনি। যাদের বলেছি তারা সবাই আমার আত্মীয়স্বজন।’

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের হুমকি–ধামকি দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।