গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘রাজু বাহাদুর’সহ মারা গেল দুটি হাতি
নারায়ণগঞ্জ থেকে মুক্ত করে আনা হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ আর বেঁচে নেই। গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে প্রায় আড়াই মাস চিকিৎসার পর হাতিটি মারা গেছে। এ ছাড়া সাফারি পার্কের আরও একটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে হাতি দুটির মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান। তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৭ আগস্ট রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগের দিন ৬ আগস্ট আরেকটি হাতির মৃত্যু হয়।
তারেক রহমান জানান, হাতিশালায় অন্য একটি হাতির ধাক্কায় রাজু বাহাদুর মাটিতে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। এরপর দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরেকটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত হাতি দুটির নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে পার্কের ভেতরে মৃতদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাজু বাহাদুর অসুস্থ অবস্থায় থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট সকালে পার্কের হাতিশালায় রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান কর্মীরা। এর আগের দিন পূর্ণবয়স্ক অপর হাতিটি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছিল।
বন বিভাগ ও সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজু বাহাদুরকে উদ্ধার করে। হাতিটিকে রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন বাজারে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ ছিল। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর। বর্তমানে সাফারি পার্কে ৮টি হাতি আছে।
গত ২৪ মে হাতিশালায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় রাজু বাহাদুরের ওপর পার্কের অন্য একটি হাতি আক্রমণ করে। এতে হাতিটি গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, তার একটি পা ভেঙে গেছে। অন্য একটি পায়েও গুরুতর আঘাত ছিল। পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসকদের আনা হয়। পাশাপাশি দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একাধিক মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।