বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় একাদশ শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। ২০১৫ সালে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়। কিন্তু শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না করেই ব্যবসায় শিক্ষা শাখা ও হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক কোর্স চালু করায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছ। এখন বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষক এনে এবং অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোরকম পাঠদান করা হচ্ছে।

কলেজ সূত্র জানায়, বর্তমানে কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে ২৮৯ জন এবং স্নাতক (সম্মান) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চারটি বর্ষে ১৬৬ জন শিক্ষার্থী আছেন। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর হিসাববিজ্ঞান বিভাগে সংযুক্ত প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এমদাদুল বারী। তিনিই হিসাববিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র শিক্ষক।

তিনিই উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতক (সম্মান) পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা নেন। উচ্চমাধ্যমিকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সংযুক্ত শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো.গোলাম মহিউদ্দিন। এ অবস্থায় ক্লাস চালাতে ও পরীক্ষা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এরপর ছয়জনকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা কেউ অসুস্থ হলে কিংবা ক্লাস চালু অবস্থায় হঠাৎ করে কলেজে না এলে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তার ওপর শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় উচ্চমাধ্যমিকে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়টি পড়ানো যাচ্ছে না।

কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এমদাদুল বারী বলেন, ‘৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগ চালু করতে হয়। এ কলেজ বিভাগ চালু করার সময় সেটি দেখা হয়নি। এ অবস্থায় ক্লাস নিতে বেগ পেতে হয়। সিলেবাস শেষ করতেও বেগ পেতে হয়। তা ছাড়া অতিথি শিক্ষকেরা অনেক সময় ক্লাস নিতে আসেন না। এরও প্রভাব পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষকের পদ সৃজন করা দরকার।’

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা ও জাহানারা আক্তার বলেন, ‘এখানকার বড় সমস্যা শিক্ষকসংকট। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক চাই।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জামাল নাছের বলেন, পদ সৃজন না করেই কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু হয়েছে। বর্তমানে পদ সৃজন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম চালিয়ে নিতে ছয়জন খণ্ডকালীন শিক্ষক ও অতিথি শিক্ষক নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষকেরে পদ সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠিয়েছেন।