সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিলারগাঁও এলাকার পাঁচটি স্থানে সামীনাপ্রাচীরের নিচে ফাঁকা (সুড়ঙ্গ খোঁড়া) ও কাঁটাতারের বেড়া কেটে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর

রহমান হলের পেছনের টিলা ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এসব স্থানে কোনো নিরাপত্তাকর্মীও নেই। সহজেই এসব স্থান দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থান ছাড়া সবখানেই সীমানা প্রাচীর আছে। তবে বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রাচীর টপকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তুলনামূলক নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকেন। একা কিংবা দুজন শিক্ষার্থী এসব এলাকায় গেলেই ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান। অনেক সময় বহিরাগত ব্যত্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন জায়গায় বসে মাদক সেবন করেন। তবে এসব ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, মোট ৩২০ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই টিলা শ্রেণির ভূমি। ফলে টিলার আড়ালে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকলে তা পর্যবেক্ষণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য অনেকটা অসম্ভব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই নানা উদ্যোগ নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বলে আসছেন। সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এসব কথা বললে তাঁরা শিক্ষার্থীদের নির্জন স্থানে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এটা তো কোনো সমাধান হতে পারে না।

মোহাইমিনুল বাশার আরও বলেন, শুধু সীমানাপ্রাচীর দিয়ে অপরাধ ঠেকানো যাবে না। এর বাইরেও কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। মূলত সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন অপরাধীরা। তাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচলের জন্য সবখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।

বুলবুল হত্যাকাণ্ডের পর গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি গাজী-কালুরিলাসহ ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেক স্থানে সীমানা প্রাচীর থাকার পরেও ক্যাম্পাসে বহিরাগত ব্যক্তিদের আনাগোনা আছে। এটি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা নেই, সেখানে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা ও সড়কবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ও নির্জন স্থানগুলোতে নিরাপত্তাপ্রহরীও বাড়ানো হবে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় মহানগরের জালালাবাদ থানার অন্তর্ভুক্ত। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুলিশ ঢুকতে পারে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দেয় পুলিশ। প্রয়োজনে আশপাশের এলাকায় টহল আরও বাড়ানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন