গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা হলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার তোফাজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী ঝুমা আক্তার (২৮), সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার রিপন শেখের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৯), আড়াইহাজার উপজেলা সদরের রহমান মিয়ার মেয়ে মিনারা (৩৫), সিদ্ধিরগঞ্জের বিক্রমপুর এলাকার মৃত রাজ্জাক মিস্ত্রির ছেলে শাহজামাল (৪০), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার চরচন্না এলাকার শাহজামালের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (২৭) ও সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার মৃত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী কমলি খাতুন (৩২)।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, ৪ আগস্ট পাচার হতে যাওয়া ওই নারী যশোর থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে র‍্যাবের একটি দল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে পাচারের কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে ভুক্তভোগী নারীর ডেবিট কার্ড ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ বলেন, অভিযানে পাচার হতে যাওয়া এক কিশোরীসহ দুজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই নারী জানিয়েছেন, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের পাশের দেশে পাচারের জন্য ওই স্থানে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে কিশোরীকে ৪ আগস্ট রাতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চক্রটি পাঁচ বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ অবহেলিত নারীদের টার্গেট করে পাচার করে আসছে। খরচ ছাড়াই ভারতে ৬০ হাজার টাকা বেতনে পারলারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের পাচার করা হয়। পাচারের শিকার এমনই এক নারী পালিয়ে এসে বিষয়টি র‍্যাবকে জানায়। ওই নারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে র‍্যাব দাবি করেছে। র‍্যাব জানায়, চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন