যুবদল নেতা হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পদ হারালেন
মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ এবং পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল।
আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের দুজনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান ওই নেতা।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতির অভিযোগে হওয়া মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এই দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন। তিনি বর্তমানে শাকের হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাতির পাঁচটি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণ ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা পরস্পর সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯)। তিনি রয়েল পরিবহনে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শাকের মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
মাগুরা সদর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণ ডাকাতির একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বাসিন্দা মো. মজিবর রহমান মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মজিবর রহমান একজন স্বর্ণের ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন তিনি ঢাকার তাঁতীবাজারের পীযূষ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ সংগ্রহ করে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদারের (শাকের হোসেন হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন) কাছে পৌঁছে দিতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে সায়েদাবাদ থেকে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বাসটি মাগুরার রামনগর বাজারে পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাস থামায়। পরে তাঁকে জোর করে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এজাহার অনুযায়ী মজিবর সোনা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। পরে তাঁর প্যান্টের বেল্টের নিচে তৈরি বিশেষ পকেট থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণের বার এবং ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ও ডাকাতি দুটি মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন ও বসির আলী নামে এক ব্যক্তিকে। তাঁদের তিনজনের বাড়ি পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায়। একই এলাকায় বাড়ি নিহত যুবদল নেতা শাকের হোসেনের।
শাকের হত্যার পরদিন রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ অক্টোবর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় অনিমেষ মজুমদারকে (৫৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, ফরিদ মণ্ডল (স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ হোসেনের শ্বশুর), শহরের আনসার কলোনি এলাকার ব্যবসায়ী মিল্টন ও তাঁর স্ত্রী মারুফা আক্তার।