দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নগুলোতে চলছে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ইতিমধ্যে তিনটি ইউপির সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। আজ ছিল কালীকচ্ছ ইউনিয়ন শাখার সম্মেলন। সম্মেলনের নিমন্ত্রণপত্রে উদ্বোধক হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন ও প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দলনেতা মুজিবুর রহমানের নাম থাকলেও প্রধান বক্তা উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমের নাম ছিল না। বেলা তিনটা থেকে কালীকচ্ছ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চলছিল সম্মেলন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম তাঁর বক্তৃতা শেষ করেন। এরপর প্রধান অতিথি মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন। সাড়ে ছয়টার দিকে নিমন্ত্রণপত্রে সংসদ সদস্যের নাম না থাকা নিয়ে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে মুজিবুর রহমান ও উম্মে ফাতেমা আলাদা মাইক নিয়ে মঞ্চে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। শান্ত করার চেষ্টা চলে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন ও পুলিশ পরিদর্শক শিহাবুর রহমান নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্য পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাত পৌনে আটটার দিকে মুজিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা একই স্থানে পরবর্তী সময়ে সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়ে পুলিশ পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমীর আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাশেদ, খাইরুল হুদা চৌধুরী, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকেয়া বেগম প্রমুখ।

আবদুর রাশেদ প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলন পণ্ড হয়নি। নিমন্ত্রণপত্রের একাংশে সংসদ সদস্যের নাম না থাকায়, না বুঝে বহিরাগত কিছু লোক পরিবেশ উত্তপ্ত করে ফেলেছেন। তাঁরা আওয়ামী লীগের বা সম্মেলনের লোক নন। উত্তপ্ত পরিবেশের কারণে সম্মেলন শেষ করা যায়নি। ভোটারদের তালিকা চূড়ান্ত করা আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে।

সংসদ সদস্য ফাতেমা নাজমা বেগম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিমন্ত্রণপত্রে আমার নাম না দেওয়ার বিষয়টি তেমন কিছু নয়। এখানে বহিরাগত প্রচুর লোক ঢুকে হট্টগোল করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সম্মেলেনের স্বার্থে আজকে সম্মেলনটি সম্পন্ন করা যায়নি।’

সরাইল থানার ওসি আসলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলনের পরিবেশটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারত। পুলিশি তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন