মহাসড়কের পাশে গরুর হাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: সড়কমন্ত্রী

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আয়োজিত এক গণসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মহাসড়কের পাশে গরুর হাট ও বাজার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আয়োজিত এক গণসচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন শেখ রবিউল আলম।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার বা পশুর হাট বসলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প ‘একটি ত্রুটিযুক্ত প্রকল্প’ মন্তব্য করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস চলাচলবান্ধব ছিল না। প্রথম প্রস্তাব, এই প্রকল্পে আরও ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করলে সুফল পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রস্তাব হচ্ছে, প্রকল্পটি ভেঙে অপসারণ করতে হবে। দুটি প্রস্তাবই পর্যালোচনা করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছি। সেই কমিটিতে পর্যালোচনা চলছে, ঈদের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আরও ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্পটি যদি চালু রাখতে পারি, তাহলে প্রকল্পটি উচ্ছেদ করার থেকে আরও বেশি কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে যেটা যুক্তিযুক্ত এবং জনবান্ধব, সে সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।’

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে গণসচেতনতামূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন প্রমুখ।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ যাতে স্বস্তিতে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, আমি সেই দাবি করে গেলাম। এই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাঞ্চলে প্রবেশের এটাই একমাত্র সহজ মাধ্যম। আমরাও এই সড়ক দিয়েই যাই। হাজার হাজার মানুষ যাতে আপনাদের এই এলাকা নিরাপদে, ভোগান্তিহীনভাবে পার হতে পারে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব।’