লিমনের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরেরহাট শেকুরপাড়া গ্রামে। বাবা গোলাম মন্ডল হাটের এক কোণে শুধু চা বিক্রি করেন। মা লাভলী বেগম গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন মা–বাবা। টাকার অভাবে লিমনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর কোনো উপায় খোঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা।

আর্থিক দৈন্য দশা তুলে ধরে লিমন বলেন, ‘বাবার সামান্য চা বিক্রি করে আমাদের কোনোরকম খাবার জোটে। বাড়তি কোনো টাকা নেই যে সেই টাকা দিয়ে ভর্তি হব। নেই কোনো জমিজমা। শুধু ৬ শতাংশ জমির ওপর বাসতভিটা। একটি লম্বা টিনের বেড়া দেওয়া ঘরে দুটি কক্ষ। প্রচণ্ড গরমে সেখানে টিকে থাকা কষ্টকর। এরপরও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে লড়াই সংগ্রাম করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।’

default-image

স্থানীয় শুকুরেরহাট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ দশমিক ৯৪ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হন লিমন। একই এলাকার শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন তিনি; উত্তীর্ণ হন জিপিএ-৫ পেয়ে। এরপর কোনো কোচিং না করেই নিজের চেষ্টা আর বন্ধুদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন লিমন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করেন।

চলতি মাসের ২১ তারিখের মধ্যে পছন্দের বিষয়ের তালিকা জমা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। লিমন জানালেন, তাঁর অবস্থান উপরের দিকে থাকায় সব বিষয়ই নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, ‘বিষয় পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে দেব। দুই নম্বরে পছন্দের বিষয় ইংরেজি। বিষয় পছন্দের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। তখন টাকার দরকার হবে।’

লিমনের বাবা গোলাম মন্ডল ছেলের জন্য সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আমার ছেলেটা কত কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। এখন তার ভর্তির জন্য যে টাকা লাগবে, সেই টাকাও সংগ্রহ করতে পারছি না। ছেলেকে ভর্তি করানোর জন্য ধারদেনাও কারও কাছে পাওয়া যাচ্ছে না। সবার ধারণা ধারের এই টাকা তো শোধ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন