‘যাঁরা ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই হেগো নাম দিয়েন’, ওএমএস ডিলারদের বিএনপি নেতা

ওএমএস ডিলারদের সঙ্গে আলোচনাসভায় বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির (আকাশি রঙের জামা)ছবি: ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া

খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রির (ওএমএস) উপকারভোগীদের মধ্যে বিএনপির লোকদের প্রাধান্য দিতে পরিবেশকদের (ডিলার) নির্দেশনা দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির এক নেতা। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে বিএনপির লোকজন খেতে পারেনি। এই সময়ে যাঁরা উপকারভোগী ছিলেন তাঁদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল)। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটা ‘আসল না’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির ওই নেতা।

বিএনপির ওই নেতার নাম জালাল উদ্দিন ফকির। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, জালাল উদ্দিন ওএমএস পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, নতুন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ডিলারদের অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে।

ওএমএস নতুন ডিলারদের উদ্দেশে জালাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ডিলাররা চাল বিতরণের সময় যাতে বিএনপির লোকজন দেখে দেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই। যাঁরা ১৫ বছরে খাইতে পারে নাই হেগো নাম দিয়েন। আর যাঁরা খাইছে হেগো কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে দিয়েন।’ জালাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ডিলাররা প্রায় গেছে, বিএনপি ডিলাররা আইছে। কম চুরিমুরি হইরেন, কম খাইয়া লইয়েন ডিলাররা...।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল ফকির প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আসল না। আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। ভিডিওটি প্রযুক্তি দিয়ে বানানো। এ ছাড়া ভিডিওটি একটি ভুয়া আইডি দিয়ে ছাড়া হয়েছে। আমি কোনো ডিলারদের সঙ্গে এমন কথা বলিনি।’

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভিডিওর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তবে জালাল উদ্দিন ফকিরের দলে কোনো পদ-পদবি নেই। কোন প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সময় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও সে সময়ের আমতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাজ করার একটি অডিও ভাইরাল হয়। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের কথা জানান। দলীয় পদধারী নেতা–কর্মীরা মাঠে না নামলেও সাধারণ কর্মী–সমর্থকদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করেন।

এ ঘটনার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জালাল উদ্দিনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত বছর তিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জালাল উদ্দিনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফেরত দেওয়া হয়।