মদন পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ

সড়ক থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করেন না পৌরসভার কর্মীরা। সড়কটি এখন ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে।

নেত্রকোনার মদন পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে আবর্জনা ফেলে রাখা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না
ছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনার মদন পৌরসভায় আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় প্রধান সড়কের পাশে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যস্ততম এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে নাক চেপে চলাচল করছেন। অন্যদিকে মশা-মাছি ভনভন করছে সব সময়।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, এক যুগ ধরে সড়কের পাশে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অথচ এখান থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করেন না পৌরসভার কর্মীরা। সড়কটি এখন ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে।

গত রোববার দেখা গেছে, পৌরসভার প্রধান সড়কটির পাশে খাদ্যগুদাম। খাদ্যগুদামের প্রধান ফটকের পাশ থেকে সড়কের এক পাশজুড়ে আবর্জনা স্তূপ করে রাখা আছে। আবর্জনা ঘেঁষে লাইন করে রাখা হয়েছে ইজিবাইক।

পথচারীরা বলেন, নেত্রকোনা শহরের বনোয়াপাড়া মোড় থেকে মদন পৌর শহরের প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে।

মদন হাজি আবদুল আজিজ খান সরকারি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী পলাশ মিয়া বলেন, ‘এই পথ দিয়ে প্রতিদিন আমাদের কলেজে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার পাশে ময়লা–আবর্জনার স্তূপ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে ওই স্থান দিয়ে যাওয়া কষ্টকর। মানুষ নাক-মুখ চেপে দম বন্ধ করে যাতায়াত করছে। ময়লার ভাগাড়টি দ্রুত সরানোর জন্য আমরা দাবি জানাই।’

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালকেরা জানান, তাঁদের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় তাঁরা আবর্জনার স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা করেন। দুর্গন্ধে সবাই অতিষ্ঠ থাকেন।

শুধু প্রধান সড়কের পাশে নয়, পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। পৌর এলাকার জাহাঙ্গীরপুর, বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ, দেওয়ানবাজার, মদন প্রেসক্লাব, মদন সেন্টার এলাকায় আবর্জনার ছোট–বড় স্তূপ চোখে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন জানান, শহরের আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। এর ফলে প্রতিদিন বাসাবাড়ির লোকজন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আবর্জনা ট্রলিতে ভরে এনে প্রধান সড়ক বা পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখছে। একটি আবর্জনা পরিবহনের ট্রাক থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেখা যায় না পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।

দেওয়ানবাজার এলাকার বাসিন্দা আরিফুল রহমান বলেন, দোকানপাটের সামনে, প্রধান রাস্তার পাশে, অফিস–আদালতের পাশে, বিদ্যালয়ের মাঠে সব স্থানেই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আবর্জনা থেকে এলাকায় জীবাণু ছড়াচ্ছে। মশা-মাছি, পোকামাকড় জন্ম নিচ্ছে। এখন বর্ষাকাল, এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। ফলে তাঁদের মধ্যেও আতঙ্ক বেড়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ১ অক্টোবর মদন পৌরসভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাইয়ে গ শ্রেণির পৌরসভা থেকে খ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌর এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। আয়তন ১০ দশমিক ১১ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু প্রায় দুই যুগেও পৌরবাসীর জীবনে তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি শহুরে জীবনের। চারদিকে গ্রামীণ আবহ। পাওয়া যাচ্ছে না নাগরিক সেবা। বেশির ভাগ রাস্তাঘাট কাঁচা। বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকলেও নলকূপের পানিই ভরসা। সড়কবাতিও গুটিকয়। সড়কের পাশে নালাও নেই।

মধ্যবাজার এলাকার ব্যবসায়ী রজিম মিয়া বলেন, মদন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। শুধু খাজনাটা বেশি দিতে হয়। কিন্তু কোনো সেবা পাওয়া যায় না। সব স্থানের রাস্তাঘাট ভাঙা। আবর্জনা সব স্থানে পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা শুধু বছর বছর খাজনা বাড়াচ্ছে।

পৌরসভার মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। নতুন জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত পৌর নাগরিকদের একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে। এ ছাড়া কর বাড়ানো হচ্ছে না। তিনি সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।