শিবির সভাপতির বক্তব্য প্রত্যাহারে সময় বেঁধে দিলেন ছাত্রদল নেতা

বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

বক্তব্য প্রত্যাহার করতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাকিন রায়হান। একই সঙ্গে শিবিরের নেতা যদি ক্ষমা না চান, তাহলে ছাত্রদল ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার বিকেলে এক পথসভায় রাকিন বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুমি (মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির) যদি তোমার বক্তব্য উইথড্র না করো, এই রাজশাহী শহরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মাঠেই ফয়সালা করবে। শুধু সতর্ক করা নয়, বক্তব্যের জন্য ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতিকে রাজশাহীর মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

আরও পড়ুন

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সমাবেশে ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।’

এর প্রতিক্রিয়ায় পথসভায় শিবির নেতা ইমরান নাজিরের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা রাকিন। তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে এ শহরে রাজনীতি করে আসছে। এই রাজশাহী শহরে ছাত্রদলকে নিয়ে কেউ বাজে কথা বললে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নগরের রাজশাহী কলেজের মহারানী হেমন্তকুমারী হিন্দু ছাত্রাবাসের সামনে এই পথসভা সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব মো. ইমদাদুল হক। এতে ছাত্রদলের অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে নগরের বাটার মোড়ে বিএনপির এক সমাবেশে যোগ দেন।

রাজশাহী মহানগর শিবির সভাপতির বক্তব্য প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান।আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী কলেজের মহারাণী হেমন্তকুমারী হিন্দু ছাত্রাবাসের সামনে পথসভায়
ছবি : প্রথম আলো

উত্তেজনার সূত্রপাত যেভাবে

নগরের পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন, ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছিল। গতকাল সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় নগরের সাহেববাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি সোনাদীঘির মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানেই ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দেন।

এর আগে ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদলের মহানগর সদস্যসচিব ইমদাদুল হকও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গতকাল রাতে তিনি বলেছিলেন, ছাত্রদল রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ইমরান নাজির ‘কুমিল্লার বাসও পাবেন না’।

বিএনপির সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আজ বিকেলে নগরের বাটার মোড়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপি সমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রাসিক প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান (রিটন)।

সেখানে ছাত্রশিবির নেতার উদ্দেশে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদল আমাদের আবেগের জায়গা। ছাত্রদলকে নিয়ে কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ বা শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ছাত্রদলকে নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে রাজশাহীতে অবস্থান করার মতো এত বড় স্পর্ধা দেখাবেন না।’

মাহফুজুর জানান, রাজশাহী শিক্ষানগরী, শান্তির নগরী। রাজশাহী মহানগরীর শান্তি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা। এ ছাড়া সমাবেশে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক, আলী আশরাফ, শফিকুল ইসলাম, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলমসহ বিভিন্ন থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন।