আবদুর রউফ বলেন, ভোররাত ৪টা ১৭ মিনিটে তাঁরা আগুনের খবর পেয়েছেন। তিন মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবার কার কেয়ার সেন্টার থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবার ঘটনাস্থলে এসে ধোঁয়ার উৎস বের করে তা নির্মূল করেন।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কার কেয়ার সেন্টার মূলত গাড়ি সারাই ও গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেখানে রাখা পাঁচটি কারসহ সেখানকার সব যন্ত্রপাতি পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই সারাইখানার সঙ্গে লাগোয়া ১১তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আছে তোফা কনভেনশন সেন্টার। দুর্ঘটনায় ওই কনভেনশন সেন্টার আসবাবসহ সব মালামাল পুড়ে নষ্ট গেছে। আবাসিক ভবনের চারতলা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সকালে কার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার সব যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পাশের বাসার সুষমা প্রমাণিক বলেন, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার পর টায়ার পোড়া গন্ধে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখেন, কার কেয়ার সেন্টারে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে আর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাচ্চাসহ বাসা থেকে অফিসের কাগজপত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় শ্যামল কুমার চৌধুরী সপরিবার থাকেন। তাঁর শ্যালিকা শিউলি রায় বলেন, ভোররাত চারটার দিকে ধোঁয়ায় তাঁর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। তখন তিনি জানালা খুলে দেখেন বাইরে আগুন আর কালো ধোঁয়া। তাড়াতাড়ি বাসা থেকে তিনি বেরিয়ে যান। সকালে আগুন নেভানোর পর বাসায় এসে দেখেন বাড়ির দেয়াল ফেটে গেছে। জানালা ও বারান্দার কাচ ভেঙে গেছে।

একই অবস্থা হয়েছে পাশের সৌমিত্র নারায়ণ মুন্সী ও আবদুল মুক্তাদিরের ফ্ল্যাটে। মুক্তাদিরের ফ্ল্যাটের টেলিভিশন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পুড়ে গেছে।

আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক বলেন, ১১তলা ভবনের সঙ্গেই মালিকপক্ষ কার কেয়ার সেন্টার তৈরি করেছেন। আবাসিক ভবন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের একই বৈদ্যুতিক ও পানির সংযোগ। কার কেয়ার সেন্টারের আলাদা কোনো দেয়ালও নেই। আবাসিক ভবনের দেয়ালের সঙ্গে কোনো ফাঁক না রেখেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। ওই আবাসিক ভবনে ৪২টি পরিবারের প্রায় ২০০ মানুষ বাস করে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কার কেয়ার সেন্টারের মালিক আসিফ মাহফুজ সনিকে খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়াও দেননি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কার কেয়ার সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা অবশ্যই আলাদা হওয়া উচিত। মালিকপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না।