নৌকা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আড়াই ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে পিংকি

শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গানে গানে উচ্ছ্বাসে মাতে শিক্ষার্থীরা। গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম চত্বর, গাইবান্ধা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: সোয়েল রানা

গাইবান্ধায় আজ বৃহস্পতিবার সকালটা ছিল মেঘলা। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার কথা। তবে অনেকেই এর আগেই এসে উপস্থিত। ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের পিংকি রানী তাদের একজন। পিংকি বলল, নৌকাযোগে দুই ঘণ্টার পথ। তারপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আধা ঘণ্টা লেগেছে। তারপরও মাঠে সাড়ে আটটায় পৌঁছালাম।

তবে দীর্ঘ এই ক্লান্তিকর যাত্রা নিয়ে পিংকির মুখে কোনো কথা নেই; বরং কণ্ঠে শোনা গেল উচ্ছ্বাস—‘বড় অনুষ্ঠান। অনেক আনন্দ হবে। এটা তো আর মিস করা যায় না। এখানে এসে নাশতা খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি, সেলফি তুলছি। ভালো লাগছে।’

জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বেকাটারি খন্দকারপাড়ার মহিমা খন্দকার অবশ্য আগের দিনই জেলা শহরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠে। শুধু তা–ই নয়, উৎসবে আসবে বলে নতুন পোশাকও কিনেছে। কণ্ঠে উচ্ছ্বাস, ‘নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, কথা হবে—অন্য রকম উত্তেজনা কাজ করছিল।’

শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনায় যোগ দিতে পিংকি ও মহিমাদের মতো শিক্ষার্থীদের পদচারণে সকাল সাড়ে আটটা থেকেই গাইবান্ধা শহরের জেলা স্টেডিয়াম চত্বরে অবস্থিত ‘গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়াম’ মিলনায়তন সরগরম হয়ে ওঠে। অনেকের সঙ্গে আসেন অভিভাবকেরা।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়
ছবি: প্রথম আলো

বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে পেয়ে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে। মেতে ওঠে নানা গল্প ও কথায়। অনেকে সংবর্ধনার ফ্রেমে সেলফি তোলে। অনুষ্ঠানে আসা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ গ্রামের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা খন্দকার বলল, ‘গ্রামেই বড় হয়েছি। এত বড় পরিসরে বন্ধুদের সঙ্গে কখনো আনন্দ করা হয়নি। অনেকটা ঈদের আনন্দের মতো লাগছে।’

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

ফটো জোনে সেলফি তুলছে শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রথম আলো

অধ্যবসায় থাকলে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব

সকাল ১০টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে বন্ধুসভার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। একই সুরে গেয়ে ওঠেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। গাইবান্ধা বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদী হাসান ও প্রচার সম্পাদক খন্দকার রিমির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর গাইবান্ধার প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ বলেন, আজ দিনটি তোমাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। এটি শুধু সংবর্ধনা নয়; তোমাদের মেধা, পরিশ্রম ও অর্জনের স্বীকৃতির বিশেষ দিন। ভবিষ্যতের পথে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দিন। তিনি বলেন, ‘পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখো, নতুন করে শুরু করো, ইনশা আল্লাহ সফল হবে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন গাইবান্ধার বন্ধুসভার সদস্যরা
ছবি: প্রথম আলো

শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক ফুটবলার মো. শহিদুজ্জামান বলেন, ‘তোমরা নিজেদের যদি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ও সমাজের জন্য কিছু করতে চাও, তাহলে শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রথম আলোর রংপুরের সাবেক নিজস্ব প্রতিবেদক আরিফুল হক বলেন, তোমাদের এমন কিছু করতে হবে, যা দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে। তোমাদের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে দেশ। লেখক ও শিক্ষক রঞ্জু খন্দকার শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শপথ পড়ান।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মহিমা খন্দকার ও রিচি মনি অনুভূতি জানিয়ে বক্তব্য দেয়। অনুষ্ঠানের মধ্যে কুইজ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।

শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গানে গানে মাতিয়ে রাখেন গাইবান্ধা বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি চুনি ইসলাম, বর্তমান সদস্য লিমন মিয়া ও রিংকি চাকী। এর আগে নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধুসভার সদস্য সেজুতি, অংকিতা, রিদিতা, কথা, দিয়া ও বর্ষা।