মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার বাসিন্দা মৃত আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে মিনারুল (৩০) নিয়মিত রক্ত দানের পাশাপাশি কাজ করছেন একজন সংগঠক হিসেবেও। ২০১১ সালে রক্ত দেওয়া শুরুর পর যুক্ত হন রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে। বর্তমানে মাগুরা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধানের দায়িত্বে আছেন তিনি। পাশাপাশি রক্ত দাতাদের সংগঠন ‘ক্লাব ২৫’–এর সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এই ক্লাবের সদস্য হওয়ার শর্ত হচ্ছে জীবনে অন্তত ২৫ বার রক্ত দানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।

মিনারুল প্রথম রক্ত দিয়েছিলেন একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেকে একজন ব্যক্তি তাঁর স্বজনের জন্য রক্ত খুঁজতে কলেজে এসেছিলেন। তাঁকে রক্ত দেওয়ার পর ভয় ভেঙে যায়। একটা ভালো লাগা কাজ করে। অপেক্ষা করতে থাকি চার মাস কবে শেষ হবে। এরপর বছরে তিন থেকে চারবার মানুষকে রক্ত দিয়েছি। মানুষকে রক্ত দিতে পারলে একটা মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।’

গত এক দশকে রক্ত দিতে গিয়ে নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে মিনারুলের। কখনো এমন হয়েছে যাকে রক্ত দিতে গেছেন তাঁর আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে রক্ত সঞ্চালনের খরচও দিতে হয়েছে নিজের পকেট থেকে। তবে এসব ক্ষেত্রে মানুষের কৃতজ্ঞতাবোধ তাঁকে মুগ্ধ করেছে, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ভালো কাজের। মিনারুল বলেন, ‘তিন থেকে চারজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়েছি। যাঁরা শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। অনেক কষ্ট লেগেছে। সুখের স্মৃতিও আছে। ২০১৪ সালের দিকে ঝিনাইদহে এক ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত হন। তাঁকে রক্ত দেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনো ফোন করে খোঁজখবর নেন। রক্ত দিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

২০১৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর করেন মিনারুল। চলতি বছরের শুরুতে পাট অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি পান তিনি। তিনি মাগুরা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রথম আলো মাগুরা বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।