চট্টগ্রামের দুই আসনে জামায়াত ও শরিক দলের প্রার্থী নিয়ে ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব’

চট্টগ্রাম ৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি আসন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে দুটি আসনে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী দেয়নি। তবে বাকি দুই আসনে ইতিমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। অর্থাৎ শরিক দলের প্রতীকের পাশাপাশি ব্যালটে থাকবে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনগুলো শরিক দলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), চট্টগ্রাম-৫ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দেওয়া হয়েছে।

চারটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৫–এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম-১৪–এ এলডিপির ওমর ফারুক প্রচারণায় ব্যস্ত। তবে দ্বিধা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী মাঠে প্রচারণায় থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের শুরুতে জামায়াতের প্রার্থী সরে গেলেও গতকাল শুক্রবার থেকে প্রচারণায় নেমেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম ৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের
ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনিভাবে নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ এই দুই আসনে এনসিপি ও এলডিপির প্রতীকের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লাও থাকবে। এনসিপির প্রতীক শাপলা ও এলডিপির প্রতীক ছাতা। তবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসন দুটির বিষয়ে আমাদের বক্তব্য একই। আসনগুলোতে আমরা ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। সেখানে তাঁরা প্রচারণা করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা করব বলে জানিয়েছি।’

প্রচারণায় এনসিপি, পোস্টারে জামায়াত

চট্টগ্রাম-১২ আসনে ১১ দল সমর্থিত এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ। মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এ আসনের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছেরের পোস্টার-বিলবোর্ড দেখা গেছে।

গতকাল চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, মোহরা এবং বোয়ালখালীর কধুরখীল, পৌর সদর, চরখিদিঘিরপুর, পশ্চিম গোমদণ্ডী ও তুলাতল এলাকা ঘুরে মো. আবু নাছেরের অন্তত পাঁচটি পোস্টার-বিলবোর্ড দেখা গেছে। তবে মাঠে শাপলা কলি প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছেন মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ। আজ শনিবার নগরের নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা করেছেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে, চট্টগ্রাম নগরের এ আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর আসলে কে, তা নিয়ে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয় নিয়ে আলাপ–আলোচনা চলছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে জোটের পক্ষে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার কথা, সেটি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে জানতে জামায়াতের প্রার্থী আবু নাছেরের মুঠোফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করে জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সমর্থন না থাকায় আমরা তাঁকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁর আগ্রহ ছিল না। দাঁড়িপাল্লার প্রতীক বাদ দেওয়ার বিষয়ে যে চিঠি নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছিল, সেটি আগের। এখন পরিস্থিতি আলাদা। স্থানীয় লোকজন দাঁড়িপাল্লার জন্য মিছিল করেছে। আমরা বাধা দিলেও তারা মানছে না।’

সরে গিয়েও প্রচারণায়

চট্টগ্রাম ১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলী। তবে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মোহাম্মদ ফরিদুল আলমও প্রতীক পেয়েছেন। ২৪ জানুয়ারি এলডিপিকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন ফরিদুল আলম। পরে ২৯ জানুয়ারি ফরিদুল আলমকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন এয়াকুব আলী।

জামায়াত ও এলডিপির সূত্র জানায়, শুরুতে এলডিপিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল সমঝোতা অনুযায়ী। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি। ২১ জানুয়ারি তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর পরদিন উচ্চ আদালতে রিটে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

প্রচারণার অপর্যাপ্ত সময়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন এয়াকুব আলী। তিনি সরে দাঁড়ানোর দিন রাতেই মিছিল নিয়ে বের হন মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। শুরুতে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ৩০ জানুয়ারি থেকে মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন তিনি। দুই দিন ধরে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে তাঁর ব্যানার টানানো হয়েছে এলাকায়।

বক্তব্য জানতে চাইলে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রচারণায় আছেন বলে জানান তাঁর এক কর্মী। নাম না জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেটি দু-এক দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।