এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি করার জন্য কাউকে ছাত্রলীগের পদ দেওয়া হয়নি। যদি কেউ এমন কিছু করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত করে শরীফুল হাওলাদারের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান খান বলেন, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ চলছে। দরপত্রের মধ্যে প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার মের্সাস অমি ইন্টারন্যাশনাল কাজটি পায়। চারতলা ফাউন্ডেশনের ভিত্তিতে তিনতলা পর্যন্ত কাজ হবে।

অমি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক সৈয়দ আলী আরিফ বলেন, দরপত্র আহ্বান করলেও সীমানা জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়। সীমানা মীমাংসা হওয়ার পর অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেন তিনি। তখন থেকে কাজের দায়িত্বে থাকা কারিগরি ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামের কাছে বারবার শরীফুল ইসলাম চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। মাটি খননের পর ডিসেম্বরের শেষের দিকে পাইলের কাজ শেষ করে ১৫ দিনের বিরতি ছিল। পরবর্তী কাজের জন্য গত শনিবার স্কুলে নির্মাণসামগ্রী আনা হয়। গতকাল রবিউল ইসলাম স্কুলে গেলে শরীফুলসহ ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে এসে পিস্তল ঠেকিয়ে তাঁদের কাছে তিন লাখ টাকা এবং দৈনিক এক হাজার করে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন তাঁরা।

সৈয়দ আলী আরিফ বলেন, গতকাল বিকেলে স্কুলের উদ্দেশে বের হয়ে স্থানীয় পেশকার মোড় চায়ের দোকানে বসেছিলেন তিনি। এমন সময় শরীফুল তাঁকে দেখে গালমন্দ শুরু করেন। স্থানীয় এক ওষুধের দোকানে গিয়ে বসলে সেখানে শরীফুল লোকজন নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি ও লাত্থি মেরে আহত করেন। স্থানীয় অনেক লোকজন জড়ো হলে কৌশলে সেখান বের হয়ে স্কুলের দিকে আসেন। সেখানেও তাঁরা ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জীবন রক্ষার্থে স্থানীয় এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। এ সময় সন্ত্রাসীরা কাজের সাইডের বিভিন্ন মালামাল তুলে ফেলে কাজ বন্ধ করে দেন। ভয়ে শ্রমিকেরাও কাজ বন্ধ করে চলে যান। পরে পুলিশ এসে তাঁকে ও কারিগরি ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শরীফুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সৈয়দ আলী আরিফ বাদী হয়ে রাতেই শরীফুলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার শরীফুলকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।