রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের দুজন নিহত

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুজন মাফল মিয়া ও আরিফ মিয়াছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে দুজনের পরিবার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

নিহত দুজন হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চর গুজামানিকা গ্রামের মাফল মিয়া (২৪) ও রায়েরছড়া গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (৩০)।

নিহত দুজনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে উন্নত জীবনের আশায় ওই দুই বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়া যান। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়ে ওই দুজনকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে পৃথক স্থানে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলায় তাঁরা দুজন নিহত হন।

প্রথমে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁদের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়তে থাকে।

মাফল মিয়ার মৃত্যুর খবরে বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। গতকাল রোববার বিকেলে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

নিহত মাফল মিয়ার বড় বোন কণিকা আক্তার বলেন, ‘আমাদের সংসার খুবই অভাবের। এলাকায় কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় আমার ভাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এক দালালের মাধ্যমে রাজমিস্ত্রির কাজের আশ্বাস পেয়ে সে রাশিয়ায় গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। মাঝেমধ্যে ফোন করত। একবার ফোন করে জানিয়েছিল, তাকে কাজ না দিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।’ ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

উপজেলার সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আরিফ মিয়া আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। উন্নত জীবনের আশায় চাকরি ছেড়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়েন। যাঁদের মাধ্যমে গিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁকে ভালো কাজ দেবে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁকে রাশিয়াতে নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়ে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘রাশিয়ায় নিহত হওয়ার বিষয়ে আমাকে কেউ এখনো কিছুই জানায়নি। ঘটনা যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে ভুক্তভোগীরা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব যেন লাশগুলো দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়।’