মুড়ির প্যাকেটে ককটেল বিস্ফোরণ, ঝলসে গেছে জামায়াত নেতার হাত–পা

ককটেলপ্রতীকী ছবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মুড়ির প্যাকেটে রাখা ককটেল বিস্ফোরণে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে তাঁর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত মনিরুল ইসলাম সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম আজ ফজরের নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পর ঘরের দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে প্যাকেটটি রেখে গেছে মনে করে তিনি সেটি হাতে তুলে নেন। প্যাকেটটি ঘরে নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মনিরুল ইসলামের হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।

বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

মনিরুল ইসলামের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুশফিকুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আহত মনিরুল ইসলাম জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। তাঁর ছোট ভাই এম এম রকিব উদ্দিন সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত সদস্য পদপ্রার্থী। মূলত ওই প্রার্থীকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা মুড়ির প্যাকেটে বোমা রেখে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুল করে বোমাসহ প্যাকেটটি রকিব উদ্দিনের ঘরের পরিবর্তে মনিরুল ইসলামের ঘরের দরজার সামনে রেখে যেতে পারে।

মুশফিকুর রহমান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিস্ফোরণের নেপথ্যের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, মনিরুল ইসলাম একটি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে গেটের পাশে একটি পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পান। পরে ঘরে নিয়ে সেটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার সময় হাতে তৈরি ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।