৩ সেপ্টেম্বর একই স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। এতে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরও ১০ জন শিক্ষার্থী। মূলত প্রথমবার প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উত্ত্যক্ত, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কারাতে প্রশিক্ষণ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আনিকা হোসেন প্রথম দফায় কারাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সে জানায়, ‘আগে বাসা থেকে একা রাস্তায় বের হতে খুব ভয় লাগত। কিন্তু কারাতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন আগের সেই ভয়ডর কেটে গেছে। এখন আমি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির আরেক ছাত্রী পূর্ণিমা রায় বলে, কারাতে শিখলে শরীরচর্চা হয়, ফিটনেসও বাড়ে। নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়।

৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়েছে শেরপুর মডেল গার্লস ইনস্টিটিউটের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশকান আক্তার। সে বলে, ‘নিজেকে সাহসী হিসেবে গড়ে তুলতে ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনে কারাতে শিখছি। এটি শিখতে বাবা বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’

মুশকানের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ প্রশিক্ষণ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কিশোরীদের কারাতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সোতোকান কারাতের ব্ল্যাক বেল্ট ড্যান–ওয়ান মো. ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, কারাতে একটি আর্ট। এটি ছেলে–মেয়ে, ছোট–বড় সবাই করতে পারে। কারাতে অনুশীলন একজন মানুষকে সুস্থ রাখতে ও মনোবল বাড়াতে দারুণ সহায়তা করে। শেরপুরে যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কারাতে প্রশিক্ষণ চলতে পারে, সে জন্য তিনি কায়ো কারাতে দো একাডেমি চালু করবেন।

জন–উদ্যোগের শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী জানুয়ারিতে কিশোরীদের জন্য আরও একটি কারাতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মানিক দত্ত বলেন, জেলা প্রশাসক ও ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সাহেলা আক্তার মেয়েদের কারাতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর সহযোগিতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বছরব্যাপী এ প্রশিক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন