বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত দিল আরাকান আর্মি
বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আটক হওয়া ২৪ জেলেকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। আজ বুধবার দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রচেষ্টায় তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়। ২৪ জেলের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশের নাগরিক। আর বাকি আটজন টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ থেকে একটি ট্রলারে করে ২৪ জেলেকে নাফ নদীর মাঝামাঝি শূন্যরেখায় নিয়ে আসে আরাকান আর্মি। পরে টেকনাফ পৌরসভার খায়ুকখালী ট্রানজিট জেটিঘাট থেকে বিজিবির একটি দল নাফ নদীর শূন্যরেখায় পৌঁছে আরাকান আর্মির সঙ্গে মতবিনিময় করে। মতবিনিময় শেষে বিজিবির কাছে আটক ২৪ জেলেকে হস্তান্তর করে আরাকান আর্মি। বেলা দেড়টার দিকে ২৪ জেলেকে নিয়ে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফের ট্রানজিট জেটি ঘাটে ফিরে আসেন।
জানতে চাইলে টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন। তখন বেশ কিছু জেলেদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এত দিন জেলেদের মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রিত এলাকা অথবা কারাগারে রাখা হয়েছিল। মানবিক বিবেচনায় আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি উদ্যোগ নেয়। আলোচনার মাধ্যমে ২৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনা হলো।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া আরও বলেন, এর আগেও আটক জেলেদের ফেরত আনা হয়েছিল। ফিরিয়ে আনা ২৪ জেলেদের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মিয়ানমারে আটক অন্য জেলেদেরও দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশি নৌকাসহ ৪৩৪ জন জেলেকে আটক করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে বাংলাদেশি ২২২ জন ও রোহিঙ্গা ২১২ জন। তবে বিজিবির প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে কয়েক দফায় ৩৪৮ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। ফেরত আনা জেলের মধ্যে বাংলাদেশি ১৫৭ জন ও রোহিঙ্গা ১৯১ জন। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে বাংলাদেশি ৬৫ জন ও রোহিঙ্গা ২১ জন বন্দী রয়েছেন।