এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ, এর আগেও তাঁর স্বামী এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্নভাবে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ওই ছাত্রী পরিবারকে জানায়। পরে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করেন। প্রায় সময়ই তিনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার হুমকি দিতেন। ১ আগস্ট ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। পরে ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।

বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে জানাজানি হলে আজ বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর তারা বিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অপসারণ এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে স্লোগান দেয়। শিক্ষার্থীদের সড়কের ওপর অবস্থানের কারণে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল, বাকেরগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আকমল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। পরে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন। প্রশাসন ও অভিভাকদের বৈঠকের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ, এর আগেও তাঁর স্বামী এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার বলেন, ‘আমাদের কাছে ওই ছাত্রীর মা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আকমল হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক যখন বাকেরগঞ্জ দুধল মৌ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে ‘নারীঘটিত’ অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন