নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় ৭ বছর আগে প্রতিবেশী লালন দেওয়ানের কাছ থেকে কৃষক আকবর আলী শেখ এক বিঘা কৃষিজমি কেনেন। এরপর ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আকবর একাধিকবার লালন দেওয়ানকে তাগিদ দিলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। এদিকে জমি বেচাকেনা নিয়ে লালন দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর ভাই তারা দেওয়ানের বিরোধ চলে আসছিল।

মজনু শেখের পরিবারের লোকজন বলেন, গতকাল সকালে আকবর তাঁর দুই ছেলে মজনু ও নজরুলকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করার জন্য ট্রাক্টর দিয়ে মাটি প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় পাশে তারা দেওয়ানের জমির কিছু অংশ ভেঙে যায়। এতে তারা দেওয়ানের ছেলে লতিফ দেওয়ান সেখানে এসে আকবর ও তাঁর ছেলেদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে লতিফ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নজরুল ও মজনুর ওপর হামলা চালান। ছেলেদের রক্ষা করতে গেলে আকবর আলীকেও মারধর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা সবাই পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মজনু ও নজরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মজনু মারা যান। নজরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে মজনুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। তবে অভিযুক্ত লতিফ দেওয়ানের পরিবার সবাই পলাতক। তাই এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মজনুর বাবা আকবর আলী বলেন, ‘লালন দেওয়ানের কাছ থেকে জমি কেনার পর থেকে লতিফ ও তাঁর বাবা তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে জমি মাপজোখের ব্যাপারে আবেদন করেছিলাম। গতকাল ওই জমি চাষ করতে গেলে ঝগড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার ছেলে মজনুকে কোদাল ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।’

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে জমিটি মাপার জন্য আকবর আলী শেখ আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে তারা দেওয়ানের পরিবারকে নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদে আসেননি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, রাত ১২টার দিকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পরিবারের সবাই পলাতক থাকায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিহত ব্যক্তির লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।