নুরুল হকের কর্মীর বসতঘরে আগুন, হাসান মামুনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণ অধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুরের এক কর্মীর বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।ছবি: প্রথম আলো

পটুয়াখালী-৩ আসনে (গলাচিপা-দশমিনা) বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের এক কর্মীর বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর-আমখোলা গ্রামে এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন নুরুল হক। এ ঘটনায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ হাসান মামুনের কর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

আগুনে চর-আমখোলা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা নাঈমুল ইসলামের একটি মোটরসাইকেল ও ঘরে রাখা বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। তিনি যুব অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নাঈনুল ইসলামের ভাষ্য, নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণ অধিকারের নুরুল হকের পক্ষে (ট্রাক প্রতীক) কাজ করছেন তিনি। শুক্রবার দিনভর ট্রাক প্রতীকের প্রচারণা শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফেরেন। ঘরে বসে প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ঘরের পেছনে কিছু লোকের উপস্থিতি টের পান। কিছুক্ষণ পর ঘরের পেছনে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার দেন তিনি। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাঁদের সহযোগিতায় একমাত্র শিশুসন্তান ও বৃদ্ধা নানিকে নিয়ে কোনোরকমে ঘর থেকে বের হন।

নাঈমুলের অভিযোগ, নুরুল হকের পক্ষে কাজ করার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাসান মামুনের লোকজন তাঁর ঘরে আগুন দিয়েছেন।

হাসান মামুনের নির্বাচনী সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মাদক–সংক্রান্ত বিষয় এবং স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে নাঈমুলের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটাকে এখন নির্বাচনী সহিংসতা দেখিয়ে হাসান মামুনকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে, তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মতামত দেবেন।