গত মঙ্গলবার রুবেল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যান্ডেজে মোড়ানা বাঁ পা নিয়ে রুবেল বিছানায় শুয়ে আছেন। নড়াচড়া করতেও নিষেধ করেছেন চিকিৎসক। তাই প্রাকৃতিক কাজও বিছানায় সারতে হচ্ছে। অথচ মাসখানেক আগেও তিনি ছিলেন উপার্জনক্ষম যুবক।

আলাপকালে রুবেল মিয়া বলেন, বাড়ি ছাড়া তাঁর কোনো সম্পদ নেই। বাড়ির কাছে চণ্ডীপাশা চৌরাস্তা বাজারে তাঁর একটি চায়ের দোকান আছে। এই দোকানের আয় দিয়ে ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন মৌসুমে ফসল ভাগাভাগির শর্তে অন্যের কিছু জমি চাষাবাদ (আদি) করতেন। গত মাসে তাঁর বাড়ির সীমানায় বেড়া দিতে যান প্রতিবেশী মো. সোহরাওয়ার্দী। এ সময় রুবেল তাঁকে বলেছিলেন, মাপজোখ করে যেন সীমানার বেড়া দেন। এতে সোহরাওয়ার্দী ক্ষুব্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন।

রুবেলের স্ত্রী খায়রুন্নাহার বলেন, সোহরাওয়ার্দী এর আগেও তাঁর একটি ছাগলের বাচ্চা মেরে ফেলেছিলেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর চাপে পড়ে তিনি পাঁচ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন।

রুবেলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর সকালে রুবেল নিজের চা-দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ সোহরাওয়ার্দীর দুই ছেলের নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা ও দোকানে ভাঙচুর চালান। এতে তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রথম পর্বের চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাঁকে ছুটি দেন। ২১ দিন পর তাঁর দ্বিতীয় পর্বের চিকিৎসা শুরু করার কথা। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হামলার বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী বলেন, রুবেলের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি বা তাঁর কোনো লোকজন জড়িত নন। কে বা কারা হামলা করেছে, তা তিনি জানেন না। তখন তিনি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন।

রুবেল মিয়া বলেন, মামলার বিচারে কী হবে, তা তিনি জানেন না। কিন্তু তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁ পা ভালো হবে কি না, তা নিয়ে তিনিসহ পরিবারের সবাই চিন্তিত।

হামলার ঘটনায় রুবেলের স্ত্রী খায়রুন্নাহর বাদী হয়ে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় কয়েকজন অভিযুক্ত আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। বাকিরা পলাতক।

রুবেলের মা আনোয়ারা বেগম (৫৫) বলেন, একমাত্র ছেলের আয়ের ওপর ১০ সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল। ছেলেটি যদি ভালো না হয়, তাহলে তাঁদের সংসার কীভাবে চলবে।

রুবেল আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের চিকিৎসা শুরু হবে। তাঁকে আবার পঙ্গু হাসপাতালে যেতে হবে। প্রথম পর্বের চিকিৎসা করা হয়েছে এলাকার লোকজনের সহায়তা ও ঋণ করা টাকায়। একটাই চিন্তা তাঁর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, যদি পঙ্গু হয়ে যান, তাহলে তাঁর সংসার ও স্ত্রী-সন্তানকে দেখবে কে।