বাঁশখালীতে পানিবন্দী পরিবারগুলোর পাশে প্রথম আলো বন্ধুসভা

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পানিবন্দী একটি পরিবারের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা। আজ দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামেছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশার শীলপাড়ায় থই থই করছে বন্যার পানি। অনেক ঘরের মেঝে ডুবে আছে। পানির মধ্যেই গত বুধবার থেকে দিন কাটাচ্ছে সুকুমার শীলের পরিবার। পানিতে রান্নাঘর অচল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকলেও তেমন সহায়তা পাননি তাঁরা।

আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁর হাতে তুলে দেন খাদ্যসামগ্রীর একটি প্যাকেট। এতে ছিল মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, মোমবাতি, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, নাপা, গুড়সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এ সময় সুকুমার শীল বলেন, ত্রাণ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তবে ঘরের ভেতরে পানি জমে থাকায় অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

শুধু সুকুমার শীল নয়, পানিবন্দী হয়ে থাকা ৫০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। গতকাল দিনভর বন্ধুসভার সদস্যরা গ্রামের শীলপাড়া, ইউসুফ মাঝির বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পানিবন্দী পরিবারগুলোর হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাঝির বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ শওকতের ঘরেও এখনো পানি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে থাকা আর খাবারের ব্যবস্থা করা—এই দুশ্চিন্তা প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে তাঁকে। ত্রাণ বুঝে পাওয়ার পর তিনি বলেন, বাসার ভেতরে পানি এখন টানা পাঁচ দিন। পানি পুরোপুরি নামছে না। কাজেও যেতে পারছি না। সবচেয়ে বেশি চিন্তা খাবার নিয়ে। এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে।

বন্ধু সাঈদ আল সোহেল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।

বন্যার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।  হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল,

হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট নম্বরে।