নিহত মো. হাসান আহাকি এলাকার তমিজ উদ্দিনের ছেলে ও তাঁর মামা শহিদুল ইসলামের জয়েরটেক এলাকার জবর আলীর ছেলে। পেশায় ব্যবসায়ী হাসানের স্ত্রী ও পাঁচ বছরের একটি মেয়েসন্তান এবং শহিদুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহত অপর চারজন হলেন শহিদুলের বন্ধু জয়েরটেক এলাকার উজিরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (৪০), একই এলাকার হাসেন আলীর ছেলে আবদুর রহমান (৪৫), রকমান আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ (৪৫), নুরুল ইসলাম (৪৮)। তাঁদের লাশ গৌরনদী হাইওয়ে থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন আছর উদ্দিন, মোকছেদ আলী, লিটন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম।

হাসানের ভাগনে সোলায়মান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে হাসান ও শহিদুল ইসলাম স্বপ্ন দেখছিলেন কুয়াকাটায় যাওয়ায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতু হয়ে কুয়াকাটায় যাওয়ার উদ্দেশে আজ সকালে বাসা থেকে বের হন তাঁরা। তাঁদের এই যাত্রাই যে শেষযাত্রা হবে, কে জানত।

হাসান ও শহিদুল ইসলাম নিজ নিজ পরিবারে ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবার দুটি। হাসানের স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩০) বলেন, ‘স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ভালোই ছিলাম। সমুদ্রসৈকত দেখতে গিয়ে স্বামী আমাদের ছেড়ে চলে গেল। এখন আমাদের কী অবস্থা হবে? কে আমাদের দেখবে?’

নিহত ছয়জনের স্বজনেরা জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে আজ সকাল ৬টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে রওনা দেন ২৩ জন। একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন ব্যবসায়ী, দলিল লেখকসহ ১০ জন, আরেকটিতে ওঠেন উচ্চমাধ্যমিক ১৯৯৬ ব্যাচের ১৩ জন।

উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ জনকে বহনকারী মাইক্রোবাসের চাকা ফেটে যায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মোল্লা পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় মাইক্রোবাসটির। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপর দুইজনের মৃত্যু হয়।

জানতে চাইলে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ছয়জনের লাশ গৌরনদী হাইওয়ে থানা–পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় গৌরনদী হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মাহাবুব হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন