নানা সময়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ায় যত টাকা বকেয়া হয়েছে, তা ফেরত দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারীর কক্ষে যান ৬৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক (সবার বাঁয়ে)
ছবি: সংগৃহীত

চাকরিজীবনে এমদাদুল হক (৬৫) ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কনস্টেবল। ঢাকায় কর্মস্থল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়িতে যেতে তাঁর ভরসা ছিল ট্রেন। টিকিট কেটেই তিনি যাতায়াত করতেন। তবে শেষ বয়সে এসে সব সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ধৈর্য থাকত না তাঁর। অনেক সময় কাউন্টারে টিকিট ফুরিয়ে যেত। সে কারণে বাধ্য হয়েই বিনা টিকিটে ভ্রমণ করতেন তিনি। হঠাৎ বোধোদয় হয়েছে এমদাদুলের। বিবেকের তাড়না থেকে তিনি নিজেই রেলস্টেশনে আসেন। হিসাব করে আগের ট্রেনভ্রমণের সব টাকা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে বুঝিয়ে দেন।

গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ করে বিবেকের তাড়না থেকে ভাড়া পরিশোধের বিষয়টিকে বিরল ও ব্যতিক্রম বলে মন্তব্য করেছেন রেলওয়েসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এমদাদুল হককে সাধুবাদ জানান অনেকেই।

এমদাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঋণ রেখে যতই পুণ্য করি না কেন, এই ঋণের দায় তো কোনো পুণ্য দিয়ে শোধ করার উপায় নেই। সরকারি চাকরির সুবাদে আমি প্রায়ই ট্রেনে আসা–যাওয়া করতাম। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, লাকসাম, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকা জেলায় চাকরি করেছি। সব সময় ট্রেনে ভ্রমণ করেছি। টিকিট কেটেই আসা–যাওয়া করতাম। তবে চাকরির শেষ সময়ে বয়সের জন্য মাঝেমধ্যে কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ব্যস্ততার কারণে সময়স্বল্পতার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে পারিনি। আবার অনেক সময় কাউন্টারে ট্রেনের টিকিটও পাইনি। তাই বেশ কয়েকবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেছি।’

এ জন্য শেষ জীবনে এসে অনুশোচনায় ভুগছিলেন জানিয়ে এমদাদুল হক বলেন, ‘সেই অনুশোচনা, বিবেকের তাড়না থেকে ২ হাজার ৫৩০ টাকা সমমূল্যের আসনবিহীন টিকিট কেটে দায়মুক্ত হলাম। কতবার বিনা টিকিটে গিয়েছি, নির্দিষ্ট করে মনে নেই।’ তিনি বলেন, ‘ট্রেন জনগণের সম্পত্তি। ভাড়া পরিশোধ না করলে জনগণের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাই অনুমান করে এই টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করেছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশনে যান এমদাদুল হক। তিনি স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদারের কক্ষে যান। চাকরিরত অবস্থায় বিনা টিকিটে ট্রেনে যাতায়াতের বিষয়টি তিনি প্রধান বুকিং সহকারীকে জানান। এরপর আগের ট্রেনভ্রমণের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার প্রথম আলাকে বলেন, টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের দায় থেকে মুক্ত হতে একটি নির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি স্টেশনে আসেন। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আসনবিহীন টিকিটের ২ হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধ করেন, যা ১১টি টিকিটের ভাড়া। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।