আড়াই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি
ভোলার মেঘনা নদীতে আবারও ধরা পড়েছে আড়াই কেজি ওজনের একটি ‘রাজা ইলিশ’। মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে আনা মাছটি প্রথমে নিলামে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, পরে ঘাটে বসেই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে মুঠোফোনে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। চলতি মৌসুমে নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ না মিললেও এমন বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
এর আগে গত শুক্রবার ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা তালতলি মৎস্যঘাটেও আড়াই কেজি ওজনের আরেকটি ‘রাজা ইলিশ’ ধরা পড়ে। জেলে মিরাজ মাঝি সাগর মোহনা থেকে মাছটি নিয়ে আসেন। সেটি নিলামে ১২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও পরদিন ঢাকার আড়তে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বড় আকারের এমন ইলিশ ‘রাজা ইলিশ’ নামে পরিচিত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে জেলে এমরান মাঝি (৪৩) মাছটি নিয়ে আসেন। তিনি জানান, সকালে মেঘনা নদীতে জাল তোলার সময় অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির ইলিশ মাছটিও ধরা পড়ে। পরে ফরহাদ হাওলাদারের আড়তে নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন ব্যবসায়ী শাওন হাওলাদার।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মাইনউদ্দিন বলেন, নিলামে মাছটি শাওন হাওলাদার ১৫ হাজার টাকায় কেনার পরে ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী দরদামে অংশ নেন। পরে ঢাকার এক ক্রেতা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মাছটি ২০ হাজার টাকায় কিনে নেন।
শাওন হাওলাদার বলেন, ‘আমি নিলাম থেকে মাছটি ১৫ হাজার টাকায় কিনেছি। পরে ব্যক্তিগতভাবে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করতে চাই না।’
ইলিশা তালতলি মৎস্যঘাটের আড়তদার নাগর হাজারি বলেন, চলতি মৌসুমে এত বড় ইলিশ খুব কমই দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে এটিকে মৌসুমের অন্যতম বড় ইলিশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মৌসুমের শেষ দিকে বড় ইলিশ ধরা পড়া ইতিবাচক লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হুসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আড়াই কেজি ওজনের একটি ইলিশের বয়স আনুমানিক দুই থেকে আড়াই বছর হতে পারে। সামনে ডিম ছাড়ার মৌসুম হওয়ায় বড় ইলিশ নদীমুখী হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, মেঘনা নদীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেক জেলে গভীর সাগর মোহনায় মাছ ধরতে যাচ্ছেন। সেখানে মাছের সম্ভাবনা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে প্রতিটি যাত্রাই অনিশ্চয়তায় ভরা। তবু জীবিকার প্রয়োজনে নদী ও সাগরের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা।