কুমিল্লায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় একজনকে ছুরিকাঘাত, ৫ দিন পর মৃত্যু
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় রমিজ উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। ঘটনার পাঁচ দিন পর গতকাল শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় নিহত ব্যক্তির ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি মাদক কারবার ও সেবনে জড়িত।
নিহত রমিজ উদ্দিন উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল গ্রামের উত্তরপাড়ার প্রয়াত মহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিজ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৯টার দিকে মরদেহ ঢাকা থেকে বাড়িতে পৌঁছায়।
আজ শনিবার সকালে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রমিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং বর্তমানে এলাকায় সামাজিক কাজকর্ম করতেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে ছিলেন। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় তাঁর ভাই স্থানীয় একটি চক্র মাদক কারবারে জড়িত। তাদের মধ্যে পুরোনো পাওনা টাকা–সংক্রান্ত একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে সামনে এনে মূলত মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় গত সোমবার তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ব্যক্তির ছেলে দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই ঘটনায় জড়িত নিহত ব্যক্তির ভাই মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে আজ শনিবার কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
নিহত ব্যক্তির আরেক ভাই আবদুল সাত্তার অভিযোগ করেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, যাঁদের মধ্যে তাঁদের এক ভাইও আছেন। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসি চান।