বরিশালে ‘বুবি ট্র্যাপ’: বিস্ফোরণের ৯ দিন পর দগ্ধ নারীর মৃত্যু
বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রত্যন্ত গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম (৫০) মারা গেছেন। বিস্ফোরণের ৯ দিন পর আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন আজ রাত নয়টার দিকে হনুফা বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, তিনি (হনুফা বেগম) আজ বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ওই ঘটনায় হনুফা বেগমের মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) ও নাতি ফাহিম (১৫) দগ্ধ হয়। ফাহিমের শারীরিক অবস্থা এখনো গুরুতর বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হনুফা বেগম। তাঁর স্বামী প্রয়াত শাহ আলম হাওলাদার। ৩ আগস্ট ভোরে তাঁদের বাড়ির উঠানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই তিনজন দগ্ধ হন।
নিহত হনুফা বেগমের ছোট ছেলে জামাল হোসেন হাওলাদার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আজ রাত ১০টার দিকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমার মায় নাই, বুঝতেও পারি নাই, আমার মায় এইভাবে আমাগো ছাইড়্যা চইল্লা যাইবে। বাপ নাই, মায়ের মুখের দিকে চাইয়্যা আমরা ভরসা পাইতাম। এহন হ্যায় শ্যাষ।’
জামাল জানান, তাঁর বড় ভাই কামাল হোসেন ঢাকায় মা, বোন ও ভাগনের চিকিৎসার জন্য সঙ্গে ছিলেন। ছোট বোন ইতির অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও ভাগনের অবস্থা এখনো ভালো নয়।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, হনুফা বেগমের জামাতা সুজনের কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। আজ বিকেলে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফা বেগম মারা যান।
জেলা প্রশাসক বলেন, আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পর থেকেই জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন তাঁদের চিকিৎসার বিষয়টি তদারক করে আসছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। একই সঙ্গে নিহত হনুফা বেগমের মরদেহ ঢাকাসহ বরিশালে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় খরচও প্রশাসন বহন করবে।
যেভাবে ঘটে বিস্ফোরণ
বিস্ফোরণে আহত ইতি আক্তার প্রথম আলোকে বলেছিলেন,৩ আগস্ট সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির উঠানে ভাগনেকে (ফাহিম) ব্যায়াম করাচ্ছিলেন। তখন একটি দড়ির সঙ্গে বাঁধা তিনটি লাল রঙের চিপসের প্যাকেট দেখতে পান। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখেন, দড়ির অন্য পাশে একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ বাঁধা। বিষয়টি কী, তা দেখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আগের রাতের বৃষ্টির কারণে উঠান কর্দমাক্ত থাকায় পা পিছলে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। পায়ে আগুন ধরে যায়। পাশে থাকা মা ও ভাগনের শরীরেও আগুন লাগে। পরে আতঙ্কে পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন তাঁরা।
বিস্ফোরণের পর ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল টিমের প্রাথমিক তদন্তে এই বিস্ফোরণে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরকটি সক্রিয় করতে ‘বুবি ট্র্যাপ’(বিস্ফোরণ ফাঁদ) ব্যবহার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
বাকেরগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। নিহত হনুফা বেগমের ছেলে জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪ আগস্ট বাকেরগঞ্জ থানায় ওই মামলা করেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন আজ রাতে জানান, এ মামলায় এখনো কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি আটক বা গ্রেপ্তার হয়নি।