ফরিদপুরে পাল্টাপাল্টি মামলা
আসামি হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু, অভিযোগ স্বজনদের
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি হওয়ার কথা শুনে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন।
মৃত রুহুল ফকিরের (৬০) বাড়ি উপজেলার রাকালতলী গ্রামে। গতকাল রোববার ভোরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দুই মাস ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত শুক্রবার বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় শনিবার রাতে বোয়ালমারী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার নাসিরুল হক ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদ শাহাবুদ্দীন মিয়ার দুই সমর্থক বাদী হয়ে এ মামলা দুটি করেন।
শাহাবুদ্দীন মিয়ার সমর্থক উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাদী হয়ে ১৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ জন আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার ২৯ নম্বর আসামি ছিলেন রুহুল ফকির।
রুহুল ফকিরের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রাজনীতি করতেন না। তবে জমিজমা নিয়ে শেখর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি সমর্থক রইসুল ইসলাম ওরফে পলাশের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলছে। হুমকি–ধমকিতে আমার স্বামী ঠিকমতো বাড়িতে ঘুমাতে পারতেন না। গুরুতর অসুস্থ হয়ে দুই মাস আগে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি হন। নতুন করে রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। এ খবর শুনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। একপর্যায়ে তিনি মারা যান।’
সালেহা বেগম অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রইসুল ইসলামের প্ররোচনায় আমার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে।’
এ অভিযোগ অস্বীকার করে রইসুল ইসলাম বলেন, তাঁর সঙ্গে রুহুল ফকিরের কোনো বিরোধ ছিল না। তাঁর মামাদের সঙ্গে রুহুলের জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। রুহুল ফকিরকে আসামি করা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন। আসামি করার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এ অভিযোগ প্রতিপক্ষের বানানো গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
হাসপাতালের প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃত্যুকালে রুহুল ফকিরের বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তবে মামলার এজাহারে তাঁর বয়স লেখা হয়েছে ৪৯ বছর।
মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে তিনি চেনেন না, জানেন না। একজন অসুস্থ মানুষকে মামলার আসামি করা দুঃখজনক।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান বলেন, রুহুল আমিন অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, তাঁকে কেন আসামি করা হয়েছিল?