পঞ্চগড়ে ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও, দেওয়া হয়েছে বাঁশি–টর্চলাইট
দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার ঘটনার মধ্যে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। তাদের এ তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন সীমান্তঘেঁষা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁরা বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছেন।
আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড়, মিস্ত্রিপাড়া ও হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া, বড়দরগা ও ঘাগড়া সীমান্ত এলাকা ঘুরে বিজিবির কঠোর নজরদারি দেখা গেছে।
গত শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শূন্যরেখার একটি ফসলি জমির সরু আইলে প্রায় ৬৯ ঘণ্টা অবস্থান করেন ওই ব্যক্তিরা। ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে পুশ ইনের চেষ্টার প্রায় ৬৯ ঘণ্টা পর রোববার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সীমান্তের নিরাপত্তাবাতি বন্ধ করে ওই ১০ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বিজিবির কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও সতর্ক অবস্থায় আছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, পঞ্চগড় জেলায় মোট ২৭৭ দশমিক ৯১৫ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত আছে। এর মধ্যে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় ১৩৫ দশমিক ৫৯১ কিলোমিটার, ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় ১৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় ১২৮ দশমিক ৯২৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার কিছু বাসিন্দাকে বিজিবির পক্ষ থেকে টর্চলাইট ও বাঁশি দেওয়া হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁরা বিজিবিকে সহায়তা করছেন। হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল আলম (৫০) বলেন, ‘এখন সীমান্তে বিজিবি পাহারা দিচ্ছে, আমরাও সতর্ক আছি।’
দুপুরে ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দা হারেজ আলী (৪২) বলেন, ‘বিজিবি আমাদের বাঁশি আর টর্চলাইট দিছে, এগুলো নিয়ে আমরা বিজিবির সঙ্গে পাহারা দিচ্ছি। ওরা যদি কাউকে পার দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আমরাও দেশের জন্য এটা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বে থাকা প্রায় ১২৮ কিলোমিটার সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে তিন থেকে চারবার পুশ ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজিবির তৎপরতার কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে আছি।’