পুলিশ ও মৃত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় শুক্কুর আলীর বাসায় সপরিবার ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কাজ করতেন। পাশাপাশি হজ এবং চাকরির জন্য বিদেশে লোক পাঠাতেন। ব্যবসায় মন্দা যাওয়ায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কয়েক দিন ধরে আমজাদ হোসেনের স্ত্রী উম্মেহানি উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রোববার রাতে আমজাদ হোসেন বাসায় একাই ছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়েরা বাসায় ছিলেন না।

গতকাল মুঠোফোনে কল করে আমজাদকে না পেয়ে বাসার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন সন্তানেরা। এদিন রাতে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে দরজায় নক করেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ওই বাড়ির লোকজন জানালা দিয়ে রুমের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমজাদের ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

পুলিশ আরও জানায়, মরদেহের সঙ্গে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা ছিল, দেড় শ ব্যক্তিকে দেশের বাইরে পাঠানোর টাকা নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ায় হতাশায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আমজাদ। পাশাপাশি তিনি কয়েক ব্যক্তির কাছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পান। কার কাছে কত টাকা পাওনা, তাঁদের নাম রয়েছে চিরকুটে।

পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।