থানা–পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে সিংড়ার পূর্ব ভেংড়ী গ্রামে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন এলাকার মাতবরেরা। স্বামী বিদেশে থাকায় ওই নারী দুই সন্তান নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। পরের দিন সকালে গ্রামে সালিস বৈঠক বসানো হয়।

সালিসে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ওই নারীকে ১০০টি বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরিয়ে সারা গ্রাম ঘোরানো হয়। আটক যুবককেও ১০০টি বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রবাসীর স্ত্রীকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে। রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে নির্যাতন ও সামাজিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের আগে আফসার আলী নামের এক মাতবর সাংবাদিকদের বলেন, কান ধরে ওঠবস করিয়ে আটক যুবক ও নারীকে তাঁদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। হাদিস ও শরিয়তের বিধানে আছে বলে গ্রামের মাতবররা এ রায় দেন। তবে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে ডাহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল মজিদ বলেন, গ্রামের মাতবরদের এ ধরনের বিচার বা জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানো দুঃখজনক ঘটনা। তিনি দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন।

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।