মৃত্যুবার্ষিকীতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করলেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

সুনামগঞ্জ-২ আসন (দিরাই ও শাল্লা) থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এখন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নেই। কিন্তু তাঁকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আলোচনা আছে। আছেন তাঁর অগণতি কর্মী-সমর্থক।

আজ বৃহস্পতিবার নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে আবারও তিনি আলোচনায় এলেন। মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. নাছির চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। এই দুই প্রার্থী ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করেন তাঁরা।

শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে নয়, এই দুই প্রার্থী তাঁদের নির্বাচনী সভা-সমাবেশেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নানাভাবে আলোচনায় নিয়ে আসছেন, তাঁকে স্মরণ করছেন। দিরাই-শাল্লার সম্প্রীতির রাজনীতিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবদানের কথা তুলে ধরে নিজেরাও সেটি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

শিশির মনিরের কার্যক্রমের প্রচার মাধ্যম ‘শিশির মনির মিডিয়া সেলের’ ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়, ‘দিরাই শাল্লা থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আজকের এই দিনে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

এদিকে ফেসবুক পেজে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নিয়ে পোস্ট দেন মো. নাছির চৌধুরী। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান উল্লেখ করে তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ ও তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন নাছির চৌধুরী। এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুরিঞ্জত সেনগুপ্তের সঙ্গে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন নাছির চৌধুরী।

আরও পড়ুন

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৫ সালের ৫ মে দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্ম নেন। তাঁর মৃত্যু হয় ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর উপনির্বাচনে এখানে সংসদ সদস্য হন তাঁর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা। তিনি ২০১৮ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। এই দুজন ছাড়া এখানে আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তিনি হলেন কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আইনজীবী নিরঞ্জন দাস খোকন।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারের রেলমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কনিষ্ঠ সদস্য ও বিশিষ্ট সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল দেশে-বিদেশে। সুনামগঞ্জের মানুষ তাঁকে বলতেন, ‘ভাটি বাংলার নেতা’।