বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার জহির হোসেনছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে আহত গৃহবধূ মরিয়ম বেগম (২০) থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত স্বামী জহির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

গত রোববার গভীর রাতে রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জহির হোসেন ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি অটোরিকশাচালক।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযুক্ত জহির হোসেনকে রাতেই আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্ত্রীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামী জহিরের মারধরের শিকার হয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। আর জহির খেলা দেখতে না দেওয়া নিয়ে স্ত্রীকে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মরিয়ম বেগমের বাড়ি চট্টগ্রামে। প্রায় দুই বছর আগে জহির হোসেন তাঁকে বিয়ে করে রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এই দম্পতির পাঁচ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখা নিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে জহির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পারিবারিক বিরোধে আগেও জহির তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মরিয়ম বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘরে একা ছিলেন। এ অবস্থায় স্বামীকে বাইরে গিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে যেতে নিষেধ করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে জহির একটি লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

জহির মাদকাসক্ত এবং মাদক সেবনের পর প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে তাঁর প্রতিবেশীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয় এবং অভিযুক্ত জহির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারধরের ঘটনায় গৃহবধূ হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।