পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া
কৃষক পাখি মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ করছেন। এবার তিনি এক বিঘা পতিত জমি বর্গা নিয়ে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান করেন, যা থেকে ব্যাপক ফলন এসেছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ফলের আবাদ করেন।
কুলগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ডাঁটাশাকের আবাদ করেছেন পাখি মিয়া। তাঁর এই সফলতায় আশপাশের অনেকেই এখন পতিত জমিতে কুলবাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।
পাখি মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে। তিনি বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কুলবাগান করেন।
গত রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ১ বিঘা জমিতে ২৩০টি আপেল ও বলসুন্দরী কুলগাছ, যেগুলোর সব গাছে কমবেশি ফলন এসেছে এবং ফলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কুলগাছের প্রতিটি সারির মাঝখানে ফাঁকা স্থানে ডাঁটাশাক লাগানো হয়েছে।
পাখি মিয়া বলেন, ছয় মাস আগে যশোর থেকে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের কলমচারা কিনে এনে জমিতে লাগান এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন, এরপর ফলন আসে। সপ্তাহখানেক আগে পাইকারি বিক্রি শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কেজি বরই বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি দাম ৮০ টাকা। তাঁর আশা, অন্তত চার লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে, ফল আবাদে তাঁর খরচ পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফলে তিনি লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন।
পাখি মিয়া বলেন, ‘আমার কিছু জমি আছে, কোনোটাই খালি ফালাই রাখছি না। লাউ, টমেটো, বেগুন ও শিমের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ আর বেগুন বিক্রি করছি, খরচ হয়ছে ২০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পর টমেটো আর শিম বিক্রি শুরু করব। মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি করে আল্লাহর রহমতে ভালোই সংসার চলছে।’
কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন পাল বলেন, জুড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগে কেউ আপেল ও বলসুন্দরী কুলের চাষ করেননি। পাখি মিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং এ কাজে তাঁকে অনেক শ্রমও দিতে হয়েছে। হাসনাবাদ ও পাশের বাহাদুরপুর এলাকায় অনেক পতিত টিলাভূমি আছে। পাখি মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই পতিত টিলাভূমিতে বরইগাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাখি মিয়ার কুলবাগান পরিদর্শন করেন।