রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা–মেয়েসহ ৩ জনকে ইয়াবা দিয়ে ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’, থানার সামনে বিক্ষোভ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বাবা–মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে তাঁদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে প্রায় সাত ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। ভুক্তভোগী তিনজন হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)।
ইয়াবা পাওয়া গেছে অভিযোগ এনে এই তিনজনকে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে। আজ সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ছোট ভাই ইউনুস ইজিবাইকে চুনারুঘাট যাচ্ছিলেন।
এই তিনজনের অভিযোগ, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। পরে তাঁদের তল্লাশি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ লোকজনকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কাছে জানানোর আহ্বান জানান। এরপর দুপুরের দিকে এলাকাবাসী থানার সামনে থেকে সরে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা–মোকদ্দমা চলছে। আটক ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে আমরা জানি। ঘটনার কথা শুনে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ পুলিশের সহায়তায় আমার স্বামীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে এমন ঘটনা সাজাবে, তা কখনো ভাবিনি।’
কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা সুরত আলী বলেন, ঘটনাটি ষড়যন্ত্র করে সাজানো হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, আইনের পোশাক ব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মামুনের মুঠোফোনে কল দিয়ে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আটক তিনজনকে বিকেল পাঁচটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাঁদের ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।