দুই আসনে স্বতন্ত্রের চাপ, নির্ভার মতিয়া

শেরপুর জেলার মানচিত্র

শেরপুরের তিন আসনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। জেলাজুড়ে মাইকিং চলছে। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে কিছুটা চাপে আছেন।

তবে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি নির্ভার অবস্থানে রয়েছেন। ফলে অন্য দুই আসনের চেয়ে এ আসনে নির্বাচনী আমেজ কম।

শেরপুর-১ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৭। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান। তাঁর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ছানুয়ার হোসেনের (ট্রাক) মধ্যে জমজমাট লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

দলীয় কর্মীরা বলেন, শেরপুর-১ আসনে আতিউর রহমান টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আতিউর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের অনেক নেতা-কর্মী তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

অপর দিকে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন। পাশাপাশি তিনি জেলা বাস-কোচ মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে সদর উপজেলায় তাঁর বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুন্নাহার কামালসহ অনেক নেতা-কর্মী তাঁর নির্বাচনী প্রচারের কাজে যুক্ত রয়েছেন।

ছানুয়ার হোসেন বলেন, আতিউর রহমান পাঁচবারের সংসদ সদস্য হলেও শেরপুরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করেননি। তবে তাঁর (আতিউর) ‘ব্যক্তিগত উন্নয়ন’ হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর আগে শেরপুর জেলা হলেও এখন পর্যন্ত এ জেলায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলপথ হয়নি।

তবে আতিউর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শেরপুরের উন্নয়নের জন্য তিনি সর্বোচ্চ কাজ করেছেন। যে কাজগুলো বাকি রয়েছে, সেগুলো আবার নির্বাচিত হলে অবশ্যই সম্পন্ন হবে।

শেরপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী (নৌকা), জাসদ মনোনীত লাল মোহাম্মদ শাজাহান কিবরিয়া (মশাল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ সাঈদ (ঈগল)। এ আসন থেকে মতিয়া চৌধুরী পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের একজন জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতা হওয়ার সুবাদে এ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। তবে বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। ভোটের মাঠে তাঁকে টক্কর দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় নির্ভার তিনি।

নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, ‘মতিয়া চৌধুরী একজন সৎ, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী। দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী তাঁর (মতিয়া) পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাই তিনি (মতিয়া) বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবেন বলে আমরা আশা করছি।’

শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৬। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ ডি এম শহিদুল ইসলাম (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমের (ট্রাক) মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। অপর দিকে আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনিও ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে এই দুই প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তবে ঝিনাইগাতীর চেয়ে শ্রীবরদী উপজেলার ভোটার সংখ্যা বেশি। এদিক থেকে শহিদুল কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে ওয়ারেজ নাঈম নৌকাবিরোধী ভোটারদের তাঁর অনুকূলে টানার চেষ্টা করছেন।

আবদুল্লাহেল ওয়ারেজ বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নকাজ করেননি। এমনকি এলাকাতেও তেমন একটা আসেননি। ফলে এ দুই উপজেলা অবহেলিত রয়ে গেছে। তিনি নির্বাচিত হলে কলকারখানা স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেবেন। আর শহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের মধ্যে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চন্দন কুমার পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে দলের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাঁরা মনে করেন, জনগণ নৌকাকে সব সময় পছন্দ করেন এবং নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।