সন্ধ্যার অপরূপ আলোয় তখন নদীর ধারের পুরো চর দুধের মতো সাদা হয়ে আছে। মাথাসমান উঁচু কাশবনে ছবি তুলছে তানিয়াসহ নানা বয়সের মানুষ। ফেরার সময় সবাই একগোছা কাশফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও ‘কাশবনে ফুল ছেঁড়া নিষেধ’ লেখা কাগজ টাঙিয়ে দেওয়া আছে।

শিশুকন্যা গুণবতীকে নিয়ে কাশবনে এসেছেন স্কুলশিক্ষক সিরাজুম মুনিরা। বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও স্বামীর চাকরির সুবাধে থাকেন রাজশাহী শহরে। মেয়েকে কাশফুল ছিঁড়ে হাতে দিয়েছেন। ছবি তুলছেন।  

ফুল ছিঁড়তে দেখেই একজন ফুচকা বিক্রেতা ছুটে এলেন। বললেন, ‘ফুল ছিঁড়বেন না। আপনারা ফুল ছিঁড়ে দেশের সম্পদ নষ্ট করছেন। এই ফুল দেখতেই নদীর ধারে মানুষ আসছেন। সেই সুবাদে আমাদের একটু বেচাবিক্রি হচ্ছে।’

কাশবনের ভেতরে একদিকে দেখা গেল ছবি তোলার কর্নার তৈরি করেছেন তরুণ-তরুণীরা। তাঁরা দল বেঁধে বনের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন। ছবি তুলছেন। আর ফেরার সময় গোছা গোছা ফুল নিয়ে বের হচ্ছেন।

রাজশাহী নগরের জিন্নাহনগর এলাকা থেকে এসেছেন তামান্না ও সাব্বির। এই তরুণ-তরুণীর ভাষ্য, শুধু কাশফুলের টানেই পদ্মার ধারে ঘুরতে এসেছিলেন। এত কাশফুল একসঙ্গে কখনো দেখেননি। কাশবনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার নেশাটাই কাজ করেছে বেশি।

এই ভিড়ের মধ্যেই পাওয়া গেল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির রাজশাহী জেলা সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শহরে মানুষের ঘুরতে যাওয়ার জায়গা নেই বললেই চলে। তাই সবাই চিরচেনা কাশফুল দেখতেই নদীর ধারে ভিড় করছেন। তিনিও তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। ভিড়টা বেশি হওয়ায় ঘোরার আনন্দটা অস্বস্তিতে রূপ নিয়েছে।

নওগাঁর মহাদেবপুর থেকে নাজনীন সেহেলী ও নওগাঁ সদরের আঞ্জুমান এসেছেন কাশবন দেখতে। একসঙ্গে কাশবনের ভেতরে ঢুকে ছবি তুলছিলেন তাঁরা। আঞ্জুমান তাঁর ছেলে আয়াত ও মেয়ে মার্জিতাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তাদের হাতেও কাশফুলের গোছা।

নওগাঁ সদরের একটি স্কুলের শিক্ষক আনজুমান বলেন, ‘যেমনটি ভেবেছিলাম এসে দেখি, তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কাশবন। খুবই ভালো লাগছে।’