খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, বিচারের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ এবং এর দায় এড়ানোর চেষ্টার প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযোগের ঘটনা এড়ানোর জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক গণমাধ্যমের কাছে মুঠোফোন হারানোর কথা বলেছেন, যা নিন্দনীয়। তাঁদের দাবি, অতি সম্প্রতি অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে অশালীন আচরণ ও হেনস্তার শিকার হলেও বিচারের নামে প্রহসন করা হয়। সাময়িক বহিষ্কারের পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান তাঁরা।
এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত বুধবার বিকেলেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে পাঠানো উত্ত্যক্তমূলক বার্তার স্ক্রিনশটসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল করে তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি জানান, নিজে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর শিক্ষক সেটি গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকেই বিভিন্ন ধরনের অশালীন বাক্য ও বার্তা পাঠানো শুরু করেন। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসব ঘটনার কারণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে এর আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মুঠোফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি। তিনি দাবি করেন, ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কিছু অনিয়মে বাধা দেওয়ায় একটি মহল ঈর্ষা ও শত্রুতাবশত তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।