আজ বেলা ১১টার দিকে সৈকতের কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক মরা জেলি ফিশ বালুচরে পড়ে আছে। জোয়ারের পানিতেও কিছু জেলি ফিশ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয় জেলে মামুনুর রশিদ (৪৫) বলেন, সকাল সাতটার দিকে তিনি সাগরে মাছ ধরতে নামলে পানিতে অসংখ্য জেলি ফিশ ভেসে আসতে দেখেন। স্থানীয় ভাষায় জেলি ফিশকে বলে ‘নুইন্যা’। নুইন্যা মানুষের শরীরে লাগলে চুলকানি হয়, শরীর অবশ হয়ে যায়। এ কারণে মানুষ নুইন্যার ধারেকাছে যান না।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, সমুদ্রে একাধিক প্রজাতির জেলি ফিশ রয়েছে। সৈকতে ভেসে আসা জেলি ফিশগুলো বক্স প্রজাতির।

সরেজমিনে ঘুরে এসে কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ সৈকতেও অনেক মরা জেলি ফিশ ভেসে আসছে। কিছু জেলি ফিশ বালুর নিচে চাপা পড়ছে। কিছু জেলি ফিশ বালুচরে পড়ে আছে। হঠাৎ এত বিপুলসংখ্যক জেলি ফিশ ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান জরুরি। তাঁর ধারণা, মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়েই জেলি ফিশের মৃত্যু হচ্ছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলাতলী সৈকত থেকে বেশ কিছু জেলি ফিশের নমুনা সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দরের নেতৃত্বে একদল মৎস্যবিজ্ঞানী। একেকটির ওজন ১০-১৮ কেজি। তাঁরা মরা জেলি ফিশ ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান করছেন।

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, জেলি ফিশ স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে না। এ কারণে জোয়ারে ভেসে আসা জেলি ফিশ ভাটার সময় সৈকতে আটকা পড়ে। আবার অনেক সময় জেলেদের জালেও আটকা পড়ে মারা যেতে পারে জেলি ফিশ।

সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, বিভিন্ন সময়ে জেলি ফিশ কিংবা সাদা নুইন্যা জেলেদের নিষিদ্ধ বিহুন্দি জালে আটকা পড়ে মারা যায়। পরে তা সৈকতে ভেসে আসে। এই সাদা নুইন্যা বা হোয়াইট টাইপ জেলি ফিশ খাদ্য হিসেবে এবং প্রসাধনশিল্পে ব্যবহার হয়। বঙ্গোপসাগর সাদা নুইন্যার অন্যতম আবাসস্থল হলেও দেশে জেলি ফিশের ব্যবহার নেই।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, সমুদ্রে একাধিক প্রজাতির জেলি ফিশ রয়েছে। সৈকতে ভেসে আসা জেলি ফিশগুলো বক্স প্রজাতির। নামের সঙ্গে ফিশ থাকলেও মূলত জেলি ফিশ মাছ নয়। এটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধের পর গত ২৮ অক্টোবর থেকে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়ার কয়েক হাজার ট্রলার সাগরে নেমেছে ইলিশ ধরতে। কিছু কিছু ট্রলারের জালে মাছের সঙ্গে জেলি ফিশও আটকা পড়ছে। জেলি ফিশ বিক্রি হয় না বলে জেলেরা মরা জেলি ফিশগুলো সাগরে ফেলে দেন। সম্ভবত মরা জেলি ফিশগুলো এখন জোয়ারের পানিতে উপকূলের দিকে ভেসে আসছে। জেলি ফিশ কী কাজে লাগে, তা জানেন না স্থানীয় কেউ।

জেলেরা বলেন, জেলি ফিশ সাধারণত সাগরের পানির ওপরে দৌড়ঝাঁপ দিতে দেখা যায়। তাদের শরীর নরম, অনেকটা প্লাস্টিকের মতো। দুর্বল প্রকৃতির এই প্রাণী সামান্য আঘাতে কিংবা জালে আটকা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। এই প্রাণী শরীরে স্পর্শ হলেই চুলকানি ধরে। শরীর অবশ হয়ে যায়। তবে প্রাণঘাতী নয়।