সড়কে দোকান রেখেই চলছে ৭ কোটি টাকার সংস্কারকাজ
সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় সড়কের দুই পাশে নালা নির্মাণের কথা আছে।
বরিশাল নগরের ব্যস্ততম এলাকা পোর্ট রোড। এ সড়ক সংস্কারকাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে সড়কের ভেতরে একটি দোকানঘর রেখেই চলছে সংস্কারকাজ। দোকানটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন। ফলে প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, সড়কের ভেতরে প্রায় ছয় ফুট দোকানঘরটি রেখে সংস্কারকাজ শেষ করা হলে সড়কটির প্রস্থ কমে যাবে। ব্যস্ত এ সড়কে যানবাহন চলাচলে তৈরি হবে প্রতিবন্ধকতা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থাপনাটি সরাতে হলে সড়ক আবার ভেঙে ফেলতে হবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন স্থাপনা সড়কে থাকলে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। দোকানটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরে নৌ বন্দরের পাশে পোর্ট রোড। এখানে মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও কাঁচামালের আড়তসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। দিন–রাতে সড়কটিতে ভারীসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। থাকে ব্যাপক জনসমাগমও। সড়কটি এবং নদীর তীরে গড়ে ওঠা ব্যবসাকেন্দ্রগুলোর জমির মালিকানা বিআইডব্লিউটিএর। দীর্ঘদিন সড়কে খানাখন্দ ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের অবৈধ স্থাপনা থাকায় সড়কটি সরু হয়ে পড়েছে। যানজটে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় পোর্ট রোডের ৫০০ মিটার আরসিসি সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং দুই পাশে ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সংস্কারকাজ চলমান।
দুই পাশ বর্ধিত করে সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। ফলে দোকানটি সড়কের মাঝখানে দেখা যাচ্ছে। ওই স্থাপনাটি একজন ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর জীবিকার স্বার্থ বিবেচনা করে সরানো হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় বিআইডব্লিটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটির প্রস্থ একেক স্থানে একেক রকমের। তবে এর গড় প্রস্থ সর্বনিম্ন ৪০ এবং সর্বোচ্চ ৬০ ফুট।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, প্রকল্পটির আওতায় নগের ফলপট্টি মোড় থেকে পোর্ট রোড সেতু পর্যন্ত ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার সড়কে আরসিসি ঢালাই (সিমেন্ট, বালু, খোয়া ও পানির মিশ্রণে তৈরি কংক্রিটের ভেতরে লোহার রড ব্যবহার) করা হচ্ছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়। এরই মধ্যে সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় সড়কের দুই পাশে নালা নির্মাণের কথা আছে।
স্থানীয় চারজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে পানি জমে যায়। এ ছাড়া মাছ পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে বরফ গলা পানি পড়ে প্রায় সারা বছরই সড়কে পানি জমে থাকে। পাশে নালা না থাকায় এসব পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। দোকানঘরটি উচ্ছেদ না করায় সড়ক সংস্কারের পুরোপুরি সুবিধা পাওয়া যাবে না।
স্থাপনাটি মূল সড়কের মধ্যেই পড়েছে। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা অবশ্যই অপসারণ করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ এটি অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার পোর্ট রোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বড় অংশজুড়ে লোহার রডের কাঠামো স্থাপন করা। একটি টিনশেড দোকান সড়কের ভেতরে রেখেই ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটির দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও দোকানঘরটি উচ্ছেদ না করেই সংস্কারকাজ করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুই পাশ বর্ধিত করে সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। ফলে দোকানটি সড়কের মাঝখানে দেখা যাচ্ছে। ওই স্থাপনাটি একজন ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর জীবিকার স্বার্থ বিবেচনা করে সরানো হয়নি। একজন ব্যক্তির স্বার্থকে বড় করে দেখা কতটা সমীচীন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আপনারা বলছেন, আমরা এটা বিবেচনা করব।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্থাপনাটি মূল সড়কের মধ্যেই পড়েছে। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা অবশ্যই অপসারণ করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ এটি অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।