ফরিদপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল স্থাপিত হয়। ১৯৮৬ সালে এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে এ পৌরসভার আয়তন ৬৬ দশমিক ৩১ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩২ জন।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মোট পাকা সড়ক ৪৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১২৫ কিলোমিটারের অবস্থা বেহাল। এ ছাড়া পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলজিইডির পাকা সড়ক আছে আরও প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। ২০১৮ সাল থেকে ওই সব সড়কে কোনো উন্নয়নকাজ করেনি এলজিইডি। মন্ত্রণালয় থেকে অন্যান্য পৌরসভার মতো বছরে সার্বিক কাজের জন্য ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই বরাদ্দ থেকে সড়কের সংস্কারকাজ করতে হয়। পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে সম্প্রতি ছোট-বড় মিলিয়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের কাজ অচিরেই শুরু হতে যাচ্ছে।

বেহাল সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম চাঁনমারী হয়ে বায়তুল আমানগামী সড়ক, পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার সুফি আবদুল বারি সড়ক ও কানিজ সড়ক, চৌধুরীবাড়ি এলাকার সড়ক, পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের বাড়ি থেকে চুনাঘাট সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিত সড়ক, মহিম স্কুলের সামনে দিয়ে শোভারামপুর স্লুইসগেট সড়ক, দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার মোল্লাবাড়ি সড়ক ও ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার মোতাহার হোসেন সড়ক।

এ ছাড়া থানার মোড় থেকে ময়লাপট্টিগামী সড়ক, বাদামপট্টি এলাকার সড়ক, চকবাজার থেকে পূর্ব খাবাসপুরগামী মুক্তিযোদ্ধা হরেন্দ্রনাথ সড়ক, টিটিসির মোড় থেকে ব্রাহ্মণকান্দা সড়ক, সিংপাড়া সড়ক, ফরিদপুর মেডিকেল থেকে চর কমলাপুরগামী সড়ক বেহাল হয়ে আছে।

এ সম্পর্কে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, মেডিকেল কলেজ থেকে অনাথের মোড় পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। মমিন ম্যানশন থেকে অম্বিকাসড়কসহ রাজেন্দ্র কলেজ পর্যন্ত সড়কের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বেহাল সড়কগুলো সংস্কার করা হবে।

চাঁনমারী হয়ে বায়তুল আমানগামী সড়কটি চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা বলেন, ওই সড়ক দিয়ে কলেজের বাস যাতায়াত করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার সুফি আবদুল বারি সড়কটি বেহাল হয়ে পড়ে আছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার ইলিয়াস হাওলাদার (৫৩) বলেন, এক যুগ ধরে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে না। খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি হলে আর চলাচলের উপায় থাকে না।

পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার কানিজ সড়কের তিন শ মিটারে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গাজী মোকসেদুর রহমান (৬৫) বলেন, ‘সড়কটি নিয়ে বিপদে রয়েছি। এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌরকর বাড়ছে, নাগরিক সুবিধা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।’

মহিম স্কুলের সামনে দিয়ে শোভারামপুর স্লুইসগেট সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকার বাসিন্দা শ্যামলী রানী সাহা বলেন, সড়কটির জন্য এলাকায় বাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সড়কটি পানির নিচে ডুবে যায়।

ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার অমিত মনোয়ার (৫৯) বলেন, এলাকার মোতাহার হোসেন সড়কে বৃষ্টি হলেই এক হাঁটু পানি জমে থাকে। সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না।

পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু সড়কের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নির্মাণসামগ্রীর মূল্য অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় ও বর্ষা মৌসুমের কারণে সংস্কারকাজে একটু ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন