খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিবসহ ৬৩ নেতা–কর্মী কারাগারে

কারাগার
প্রতীকী ছবি

খুলনায় পুলিশের করা নাশকতার তিন মামলায় মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলমসহ ৬৩ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে তাঁরা খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমান জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো নেতা–কর্মীদের মধ্যে আরও আছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনিরুল হাসান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, সদস্য গাজী আফসার উদ্দিন, কাজী শফিকুল ইসলাম, মাসুদ খান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক , মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ, সদস্যসচিব মো. তাজিম বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল সদর থানা আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান সজীব, নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিএনপি নেতা জালু মিয়া, ফারুক আহমেদ, জামাল উদ্দিন মোড়ল, শহিদ খান, নাসিম আহমেদ।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে তৌহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত ২ ডিসেম্বর খুলনা সদর থানায় হওয়া নাশকতার মামলায় ২৮ জন, ৪ ডিসেম্বর সোনাডাঙ্গা থানায় হওয়া মামলায় ১৬ জন ও ৫ ডিসেম্বর লবণচরা থানায় হওয়া মামলায় ১৯ জন আজ আদালতে হাজির হয়েছিলেন। আসামিরা সবাই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ওই তিন মামলার আসামিরা ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। আজ তাঁরা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাঁদের ওই আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তৌহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, মামলার তিন আসামি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনিরুল হাসান, মহানগর বিএনপির সদস্য মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও সদর থানা যুবদল নেতা মাহমুদ হাসান গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁদের বিশেষ জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু তাঁদের জামিন আবেদনও মঞ্জুর করেননি বিচারক।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ বানচাল করতে খুলনার প্রতিটি থানায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের নামে গণহারে গায়েবি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানিমূলক নাশকতা, সহিংসতা ও সরকার উৎখাত পরিকল্পনার অভিযোগে করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী ছিলেন। অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। আজ তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদেশ ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতা–কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা মিথ্যা, বানোয়াট রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, নেতা–কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সরকারের পদত্যাগ দাবি করে মিছিল করেন।