ভুয়া চিকিৎসককে এক বছরের কারাদণ্ড
এমবিবিএস পড়ালেখা না করে ব্যবহার করছিলেন এমবিবিএস পদবি। দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছিলেন রোগী। গোপালগঞ্জে এমন এক ভুয়া চিকিৎসককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের কলেজ মসজিদ রোডের সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন খান এ অভিযান পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম গোলাম মাসুদ মৃধা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম মাসুদ মৃধা দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছেন। ব্যবস্থাপত্রে তাঁর পরিচয় চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন। শুধু বিশেষজ্ঞই নয়, তাঁর নামের পাশে ডিগ্রি হিসেবে এমডি এবং ভারত থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এমন প্রতারণার সংবাদ পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন খান গোপালগঞ্জ শহরের সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে গোলাম মাসুদ মৃধার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ব্যবস্থাপত্রে তাঁর পরিচয় চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন। শুধু বিশেষজ্ঞই নয়, তাঁর নামের পাশে ডিগ্রি হিসেবে এমডি এবং ভারত থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খান বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, শহরের কলেজ মসজিদ রোডের সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন চিকিৎসকের কোনো কাগজপত্র নেই। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁর কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। গোলাম মাসুদ মৃধা নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ভারতে হেলথ কেয়ারের ওপর একটি কোর্স করেছেন। তারও কোনো কাজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর ১০ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিএমএর তালিকাভুক্ত না হলে নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না। এ ছাড়া তাঁরা জানতে পেরেছেন, ওই ব্যক্তি এর আগে একই অপরাধে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তাঁর নাম ব্যবহার করতেন জি এম মৃধা। এখানে গোলাম মাসুদ মৃধা নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় বিএমএর গোপালগঞ্জ জেলা শাখার নেতারা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।