শরীয়তপুরে এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আটজনের নামে আদালতে মামলা
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা সদরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ওই শিক্ষক বাদী হয়ে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চাঁদা দাবির জন্য মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল হাসিব মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআরের নির্দেশ দেন।
গত রোববার সকালে বিদ্যালয়ের ফটকে প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারকে কয়েকজন তরুণ বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। পরে তাঁকে মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আদালতে মামলা হয়েছে, এমন কথা শুনেছি। সেখান থেকে কোনো কাগজ আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। আদালত মামলা এফআইআর করার নির্দেশনা দিলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
ডামুড্যা থানা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরে অবস্থিত ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সুজিৎ কর্মকার ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ তোলে। ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর বিদ্যালয়ে যাননি। বিভিন্নভাবে ছুটি কাটিয়ে আসছিলেন। রোববার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে যান। এ সময় অটোরিকশা থেকে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাঁকে মারধর করেন। তাঁরা তাঁকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। পরে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।
আহত শিক্ষককে তাঁর স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গতকাল দুপুরে তিনি শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরের একটি পক্ষ আমার ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। ওই চক্রের সদস্যরা রোববার আমাকে বেধড়ক মারধর করেছেন। আমি বাধ্য হয়ে তাঁদের বিপক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় আট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন। অভিযোগের সপক্ষে বিভিন্ন তথ্য–প্রমাণ আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি।’