সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজীবুর রহমানের পক্ষে ভোট করেন। অন্যদিকে তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত ইউপি নির্বাচনের সময় থেকে তাঁর সঙ্গে মোখলেছুর রহমানের রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে।

১০ জুলাই সন্ধ্যায় মারধরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে ওই দিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ও তাঁর ভাতিজা সাজেদুর রহমান তাঁকে ইউপি কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে মোখলেছুর রহমান, জামায়াতের কর্মী সাজেদুর, কাবিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও বাবুল হোসেন তাঁকে লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই দিনই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২৪ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা করেন বিদ্যুৎ হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, থানায় মামলা করার পর তিন দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। মামলা তুলে নেওয়া না হলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এলাকাছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে থানা–পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান দাবি করেন, বিদ্যুৎ হোসেন একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। তিনি বলেন, ১০ জুলাই ঈদের দিন বিদ্যুৎ হোসেন সাবাইহাট বাজারে মদ খেয়ে মাতলামি করছিলেন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা তাঁকে ধরে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় কার্যালয় থেকে দৌড়ে পালানোর সময় দেয়ালের সঙ্গে বিদ্যুতের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি হাতে আঘাত পান। তাঁকে মারধর করা হয়নি।

এদিকে গত সোমবার মান্দা উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরাম। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজমসহ ফোরামের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান ফোরামের অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের চেয়ারম্যান মোখলেছুরকে বাঁচানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে সবাই একজোট হয়েছেন। আমাকে মাদকসেবী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আমি কোনো দিন মাদক সেবন করিনি। আমার বিরুদ্ধে এ–সংক্রান্ত কোনো মামলাও নেই।’

জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক। তাঁদের ধরার চেষ্টা চলছে। মামলা তুলে নিতে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন